সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩৭

পাহাড়ধসে মানবিক বিপর্যয়: দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

Published : 2017-06-14 22:23:00
টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্যসহ দেড় শতাধিক নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যাও অনেক। এখনও অনেকে নিখোঁজ থাকায় নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে পাহাড় ধসে পড়েছে। কথা মিথ্যা নয়! তাই বলে এত মানুষের প্রাণহানিকে শুধুই প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে দায় এড়ানো যায় না। যখন পাহাড় কেটে মাটি আলগা করে রাখা হল তখন সংশ্লিষ্টরা কী করেছেন? যখন বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটে, তখনই তাদের নড়েচড়ে বসতে দেখা যায়। ততক্ষণে ঘটে যায় মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। অন্যায় প্রতিহত করার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাক্ষীগোপাল হয়ে বসে থাকাটা সুশাসনের অভাবকেই তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ের মাটি কেটে নেওয়ার কারণে মাটির সঙ্গে পাহাড়ের ঢালের আনুভূমিক আদর্শ কোণে পরিবর্তন ঘটার কারণেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি স্থাপনের ফলে এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০০৭ সালের ১১ জুন লালখান বাজার মতিঝর্ণা এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে মারা যায় ১২৭ জন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই মর্মান্তিক ঘটনার পর তত্কালীন সরকার পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেয়। কমিটি পাহাড়ধসের ২৮ কারণ চিহ্নিত করে যে ৩৬ সুপারিশমালা প্রদান করেছিল, যার মধ্যে পাহাড় কাটা বন্ধ করা, এর পাদদেশের বসতি সরিয়ে নেওয়া অন্যতম। এ ছাড়াও পাহাড়ধস ও পুনর্বাসনে কারিগরি কমিটিসহ একাধিক তদন্ত কমিটি অর্ধশত সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এক দশক পরও সেই সুপারিশমালার একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। পাহাড়ধস ও মৃত্যুর মিছিল এবারও ঠেকানো যায়নি।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে কোনো কোনো ব্যক্তি ও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রশাসনের চোখের সামনেই পাহাড় দখল করছে, গাছ কেটে নিচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের কোনো দফতরের দায়িত্বে অবহেলা ও জবাবদিহিতার কারণে যদি প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ধ্বংস করা অব্যাহত থাকে, তাহলে এ ধরনের মানবিক বিপর্যয় কি কখনও রোধ করা যাবে? নিশ্চয়ই না। তবে আমরা আশাবাদী, সরকার মানুষের আর্তনাদ কানে তুলবে। পাহাড়ধসে সৃষ্ট এই মানবিক বিপর্যয়ের জন্য যাদের অবহেলা আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সঙ্গে পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে হবে; নতুন বসতি স্থাপনও বন্ধ করতে হবে।
পাবর্ত্য অঞ্চলে পাহাড়ধসে হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে আমরাও সমব্যথী, শোকাহত। আমরা চাই, পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ হোক। এ ধরনের বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।