বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:১৭

রক্তদানে আনন্দ যাদের

Published : 2017-06-14 12:51:00, Updated : 2017-06-14 13:08:12
হাসান মাশরুর তানজিল মো. খালেদুন রাতুল, জাবি: ২৫তম রক্তদান। কোয়ার্টার সেঞ্চুরি হয়ে গেছে। রমজান মাসেও রক্ত দেওয়া যায়। ১ মাস ২৮ দিনে আগুনে পোড়া এক বাচ্চাকে ২০০ মিলি রক্ত দিলাম। রক্ত দিন, জীবন বাঁচান। রমজানের প্রথম দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রহমান। তার রক্তের গ্রুপটা দুর্লভ, ‘ও’ নেগেটিভ।
কেন রক্তদান করেন? এই প্রশ্নে তার উত্তর-‘আমি মনে করি রক্তদান মানবতার সেবা করার অত্যন্ত সহজ একটি পদ্ধতি। এক ব্যাগ রক্তদানে একটা জীবন বাঁচে। বাঁচে একটা পরিবার। আর রক্তদানে যে আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায় তা অন্য কোনো কাজে পাওয়া যায় না। ‘অনেকের দেখেছি রক্তদানের ইচ্ছা আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ওজন নেই। অনেকে আবার শারীরিকভাবে সক্ষম কিন্তু সুচ ফুটানোর ভয়ে বা অনিচ্ছায় রক্ত দেন না। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনে কাজ করতে গিয়ে এ রকম অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই। তাই রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। রক্তদানের মাধ্যমে কোনো কষ্ট বা টাকা খরচ না করেই মানুষের উপকারে আসা যায়।’ এ কথা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান মাসরুর তানজিল। তিনিও রক্ত দিয়েছেন এ পর্যন্ত ২৫ বার। প্রাণরসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ আল ইসলাম বলেন, ‘কলেজ লাইফে প্রথম রক্ত দিই। তবে প্রথমবার নিজ ইচ্ছায় রক্তদান করিনি। এক বড় ভাইয়ের চাপে রক্ত দিই। কারণ ভয় পেতাম। রক্ত দিলে আবার কী না কী হয়ে যায়। নানা রকম ভয়। কিন্তু এই বিষয়টা মনে পড়লে লজ্জা পাই, কী সব ভাবতাম। আর এখন রক্ত দিতে ভালো লাগে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাঁধনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রক্ত দিয়েছেন ২০ বার।  কথা হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসানুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, রক্ত দিলে কোনো শারীরিক ক্ষতি নেই, বরং আছে উপকার। তবে অনেকেই রক্ত না দেওয়ার জন্য ঠুনকো অজুহাত দেন, বলেন আমার শরীর দুর্বল-সুচ দেখলেই মাথা ঘোরায়, সামনে পরীক্ষা ইত্যাদি। কেউ বলে বাড়ি থেকে নিষেধ আছে। আসলে এসবই মানসিক ব্যাপার। তাই রক্তদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
২০ বার রক্তদানের কথা জানিয়ে বলেন, সবার দোয়া প্রার্থী যেন সর্বদাই রক্তদান করতে পারি। এ রকম অনেকেই আছেন, যারা ২৫ বারেরও বেশি রক্তদান করেছেন। রক্তদানের মাধ্যমে এভাবেই তারা মানবতার সেবায় ভূমিকা রাখছেন। বাঁচিয়ে তুলছেন হাজারো মৃত্যুপথযাত্রীর জীবন। ইমতিয়াজ রহমান রক্তদান করেছেন ২৫ বার। হাসান মাসরুর তানজিল রক্তদান করেছেন ২৫ বার। হাসানুজ্জামান আর জাহিদ আল ইসলাম লিয়ন রক্তদান করেছেন ২০ বার করে।