সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১০:৩১

মানুষের জন্য কিছু করতে পারার চেয়ে সুখের আর কিছু হতে পারে না

Published : 2017-06-09 18:05:00, Updated : 2017-06-09 18:12:33
শারীফ অনির্বাণ : ফখরুল মজুমদার, তুহিন মাহমুদ, মারিয়া, শেখ লাবিব, আল-আমিন, মিতু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থীরা অন্য সবার মতই বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যাবহারকারী। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো ফেসবুকের মত এই ভার্চুয়াল প্লাটফর্মকে তারা শুধু বিনোদন আর সময় কাটানোর কাজে ব্যবহার না করে সমাজের সেবামূলক কাজে লাগাচ্ছে। তেমনই উদাহরণ, ফেসবুকে ইভেন্ট খুলে অর্থ সংগ্রহ করে পথ শিশু ও সুবিধা বঞ্চিতদের নিয়ে ইফতার ও ঈদ পোশাক বিতরণের আয়োজন।

সন্ধ্যায় চারিদিকে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হচ্ছে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বিভিন্ন বয়সী অর্ধশত শিশু ও তাদের পরিবারের হাস্যোজ্জল চেহারা সত্যিই যেন আয়োজকদের মনে বেহেশতী স্নিগ্ধতা এনে দিচ্ছিল।

বৃহস্পতিবার পথশিশুদের মাঝে ঈদ পোশাক বিতরণ ও তাদের পরিবার নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান শেষে এভাবেই অনুভূতি জানাচ্ছিলেন ইভেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা তুহিন মাহমুদ। তিনি বলেন, মানুষের জন্য ভালো কিছু করতে পারার চেয়ে সুখের আর কিছু হতে পারে হতে পারে না।

ইভেন্টের প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল মজুমদার জানালেন, এটি কোন সংগঠনের ব্যানারে নয় বরং সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যোগ থেকেই এমন আয়োজন। ফেসবুক যখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মূল্যবান সময় অপচয়ের আর সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে ঠিক সেই সময় এই প্লাটফর্মটিকে ব্যবহার করে সমাজের মঙ্গল সাধন করা যায় কিনা আমার ব্যক্তিগত এমন চিন্তা থেকেই এই আয়োজনের পরিকল্পনা।

প্রথমে নিজেই ফেসবুকে ইভেন্ট খুলি ও সবাইকে ইনভাইট করি। পরবর্তীতে বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতদের সহযোগিতায় কিছু অর্থ সংগ্রহ এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে বক্স দিয়ে টাকা সংগ্রহ করি। প্রথম দিকে শুধু, 'হুম ভালো কাজ, ক্যারি অন' বলে অনেকেই দায় সেরে দিলেও কিছু মানবপ্রেমী তরুণরা আমাকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করেছে। তারা না থাকলে এত বড় আয়োজন কখনই সম্ভব হত না। তার মতে, আসলে ভাল কাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনও আছে। শুধু প্রয়োজন সুসময়ে সু উদ্যোগের।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এতগুলো মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আয়োজক তরুণ-তরুনীরা সত্যিই অনেক বেশি আবেগাপ্লুত এবং গর্বিত। সেই সাথে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ করেন তারা। তবে এক্ষেত্রে তরুণ সমাজের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, প্রথম বারের মত এ আয়োজনে মোট ৪৩ জন পথ শিশু ও অর্ধ শতাধিক দরিদ্র পরিবারকে ইফতার ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এছাড়াও এই ইভেন্ট থেকে সংগ্রহকৃত খরচ না হওয়া অবশিষ্ট টাকা দিয়ে আরও ২০-৩০টি পরিবারকে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান আয়োজকবৃন্দ।