বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ১১:৫৫

অগ্রিম টিকেট: বিশৃঙ্খল অবস্থা রোধ করতে হবে

Published : 2017-06-06 22:40:00
রমজান মাসের তিন ভাগের এক ভাগ শেষ হয়েছে। এগিয়ে আসছে ঈদুল ফিতরের আনন্দের দিনটি। গ্রামের বাড়ি গিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য ঢাকায় বসবাসরত মানুষের একটা বড় অংশ শহর ছাড়েন। ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের বাস-ট্রেন-লঞ্চের টিকেট সংগ্রহ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টিকেট পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। প্রতিবারই দেখা গেছে টিকেটপ্রার্থীদের, বিশেষ করে ট্রেনের টিকেট পাওয়ার জন্য ভোররাত থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়। এমনও দেখা গেছে, আগের দিন সন্ধ্যা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে, অনিদ্রায় থেকে যখন প্রত্যাশিত টিকেট পাওয়া যায়, সে যেন হাতে চাঁদ পাওয়ার আনন্দ। এ বছর এখনও ট্রেন-বাস-লঞ্চের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়নি। এর মধ্যেই টিকেটপ্রত্যাশীরা খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন।
এ সপ্তাহের শেষের দিকে অর্থাত্ আগামীকালের মধ্যে রেলের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরুর সিদ্ধান্তটি আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে বাসের টিকেট বিক্রি শুরু হতে পারে। লঞ্চের অগ্রিম টিকেটও কাছাকাছি সময়ে বিক্রি শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ২৭ জুন ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ২২ ও ২৩ তারিখের টিকেটের চাহিদা বেশি থাকবে। ২২ জুন বৃহস্পতিবার। ওইদিন সরকারি চাকরিজীবীসহ অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী শেষ কর্মদিবস ধরে অফিস শেষে ঢাকা ছাড়তে শুরু করবেন। যারা বৃহস্পতিবারের টিকেট পাবেন না তারা পরদিন শুক্রবারের টিকেট সংগ্রহের চেষ্টা করবেন। ঘরমুখো মানুষের চেষ্টা থাকে আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার, প্রিয়জনের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর। আবার অনেকে আছেন রাস্তার দুর্ভোগ কমাতে ঈদের দুয়েক দিন আগে বাড়ি যাওয়াটাকে গুরুত্ব দেন। সেই হিসাবে অনেকে ২৪, ২৫, ২৬ জুনের টিকেট করার চেষ্টা করবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনেক মানুষ রাজধানী ছাড়েন বলে ঈদের সময় যানবাহনের ওপর চাপ বেড়ে যায়। রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য ঈদের সময় নির্ধারিত ট্রেন ছাড়াও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করে থাকে। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হওয়ায় ঘরে ফেরা মানুষের প্রথম পছন্দের বাহন থাকে ট্রেন। ট্রেনের টিকেট না পেয়ে অনেককে বাসে বাড়ি ফিরতে হয়। তখন বাসের ওপরও চাপ বাড়ে। বাস কর্তৃপক্ষ তাদের বহরে বেশি বাস সংযুক্ত করে। লঞ্চের সংখ্যা রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতা দেখা যায়। এতে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
টিকেট নিয়ে প্রতি বছরই নানা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ট্রেনের টিকেট চলে যায় কালোবাজারিদের হাতে। বাসের টিকেটের দাম অনেক বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং কার্যকর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, আমরা তা-ই আশা করি।