শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৯:৫৯

চিত্র-বিচিত্র

Published : 2017-06-06 13:31:00, Updated : 2017-06-06 13:45:01
দ্বীপ সাধারণত ভ্রমণার্থীদের তীর্থস্থান। এই দ্বীপের একেকটির সৌন্দর্য একেকরকম। সেই সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন জাতির মানুষের বসবাস। তবে পৃথিবীতে কিছু দ্বীপ রয়েছে যেগুলো অত্যন্ত ভৌতিক। এ রকমই কিছু দ্বীপ নিয়ে আজকের চিত্র-বিচিত্র।
প্লোভেগ্লিয়া দ্বীপ
প্লোভেগ্লিয়া দ্বীপটি ইতালির ভেনিস ও লিডোর মাঝখানে অবস্থিত। এটি বর্তমানে নিষিদ্ধ দ্বীপ। এর ইতিহাসও অত্যন্ত মর্মান্তিক। ১৩৪৮ সালে এ দ্বীপে নোঙর ফেলা দুটি জাহাজে বিউবোনিক প্লেগ দেখা দেয় এবং এই রোগে আক্রান্ত দুজন মারা যায়। ধীরে ধীরে প্লেগের মহামারী আশপাশের অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ মারা যেতে থাকে। পরবর্তী সময়ে ইতালির বিভিন্ন শহরে প্লেগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে প্লেগ রোগে আক্রান্তদের ওই নিঝুম, জনমানবশূন্য দ্বীপে পাঠানো হতো। ক্রমেই রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন ইতালি সরকারের এক নির্দেশে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে। জীবন্ত পুড়িয়ে মারার নির্মম ঘটনা দ্বীপটিকে ধীরে ধীরে সবার অজান্তেই রহস্যময় করে তোলে। ১৯২২ সালের দিকে ইতালির সরকার মানসিক রোগীদের জন্য হাসপাতাল গড়ে তোলে। চিকিত্সক এবং সেবিকাদের কথায় জানা যায়, তারা প্রতিনিয়ত অদৃশ্য কারও অনুভূতি পেতে থাকে। এছাড়া হাসপাতালে থাকা ভর্তি হওয়া মানসিক রোগীরা সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকমুখে জানা যায়, প্লেগে মৃতদের অতৃপ্ত আত্মা নাকি এখনও দ্বীপে ঘুরে বেড়ায়। এরপর থেকেই এটি নিষিদ্ধ করা হয়।

করিজিডোর আইল্যান্ড
করিজিডোর আইল্যান্ড ফিলিপাইনের ম্যানিলা সাগরে প্রণালীতে অবস্থিত। স্থানটি ১৫৭০-১৮৯৮ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশদের অধীনে ছিল। ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধের পর দ্বীপটি আমেরিকার অধীনে চলে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪১ সালে জাপানি সৈন্যরা এটি আক্রমণ করে। পরবর্তী সময়ে ৬ মে ৩০০০ আমেরিকান-ফিলিপিনো সেনারা জাপানের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এরপর ১৯৪৫ সালে আমেরিকা ‘ব্যাটল ফর দ্য রিক্যাপচার অব করিজিডোর’-এর মাধ্যমে আবারও দ্বীপটি দখল করতে চাইলে জাপান ও আমেরিকান সেনাদের মাঝে তীব্র যুদ্ধে এক হাজার আমেরিকান-ফিলিপিনো সৈন্য নিহত হয়। সেই সঙ্গে তিন হাজারের বেশি জাপানি সৈন্য আত্মহত্যা করে। অনেকের মতে এ সংখ্যা চার হাজারের বেশি। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আত্মহত্যার ইতিহাস। এরপর থেকে ম্যালিন্টা টেনেলটি (আত্মহত্যার স্থান) ভৌতিক কর্মকাণ্ড ঘটতে থাকে।

নরফোক দ্বীপ
নরফোক দ্বীপটি প্যাসিফিক সাগরের ভেতরে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে ৮৭৭ মাইল দূরে সাগরের ভেতরে অবস্থিত। দ্বীপটি ১৮২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার দখল করে নেয়। এরপর থেকে ব্রিটেনের সব ধরনের বড় অপরাধীদের ধরে এনে এখানে রাখা হতো। হাজার হাজার অপরাধীর বিচরণের কারণে দ্বীপটিকে পৃথিবীর জাহান্নাম বলা হয়। হত্যা, নারী দর্শন ছিল এ দ্বীপের প্রতিদিনের ঘটনা। আর সেই অপরাধপ্রবণ দ্বীপটিই আজ পৃথিবীর ভৌতিক স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানকার প্রায় ৫০ ভাগের বেশি মানুষ কোনো না কোনো সময় ভৌতিক কিছুর মুখোমুখি হয়েছে। স্থানটি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায়ও ভৌতিক কিছুর উপস্থিতি প্রমাণিত হয়েছে।

ওয়েবসাইট অবলম্বনে মোহাম্মদ রাসেল