মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, সকাল ০৮:০৩

সাদ্দাম হোসেনের জীবনের শেষ ছয় মাস!

Published : 2017-06-05 22:17:00, Count : 153
সকালের খবর ডেস্ক: জীবনের শেষ ছয় মাস বাগদাদের জেলে বন্দি ছিলেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে গল্প শোনাতেন কারারক্ষীদের। একদিন বলছিলেন, একটি পার্টিতে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে অনেককে মেরে ফেলেছিল আমার ছেলে উদে। শুনে ওর গাড়িগুলো পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। রোলস রয়েস, ফেরারি, পোরশে বলতে বলতে চোয়াল শক্ত হয় ইরাকের গদিচ্যুত সম্রাটের। এনডিটিভি।
মার্কিন সেনার হাতে ধরা পড়ার সময়েও যার প্রথম কথা ছিল, আমি সাদ্দাম হোসেন। ইরাকের প্রেসিডেন্ট। গণহত্যার দায়ে কদিন বাদেই ফাঁসিতে ঝুলতে হবে তাকে। জীবনের সেই শেষ ছয় মাস বাগদাদের জেলে সাদ্দামের ওপরে নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন আমেরিকার ৫৫১তম মিলিটারি পুলিশ কোম্পানির জনা ১২ সদস্য। উইল বারডেনওয়েরপার ছিলেন তাদের একজন। বইটা তিনিই লিখেছেন ‘দ্য প্রিজনার ইন হিজ প্যালেস : সাদ্দাম হোসেন, হিজ আমেরিকান গার্ডস অ্যান্ড হোয়াট হিস্ট্রি লিভস আনসেড’। ইরাকের গদিচ্যুত প্রেসিডেন্টকে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার ফসল সেই বই। উইল লিখেছেন, রেডিওতে মার্কিন গায়িকা মেরি জে ব্লিজের গান শুনতে ভালোবাসতেন সাদ্দাম। টিভিতে শিশুদের অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে খিলখিলিয়ে হেসেও উঠতেন। বাগান করতেন। সাইক্লিং মেশিনে শরীরচর্চা করতেন, আবার দেদার মিষ্টি খেতেও ভালোবাসতেন। মাফিন ছিল বড় প্রিয়।
উইল লিখেছেন, সাদ্দাম প্রাতরাশে প্রথমে খেতেন ডিমের ওমলেট। তার পরে মাফিন। সবশেষে তাজা ফল। ওমলেট ছেঁড়াফাটা থাকলে কখনও খেতেন না। আর ছিল কোহিবা চুরুট, ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে বাক্সে রাখা। রক্ষীদের সাদ্দাম বলেছিলেন, তাকে চুরুট খাওয়ার কৌশল শিখিয়েছিলেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো।
নানা গল্প হতো কারারক্ষীদের সঙ্গে। ছেলেমেয়েদের স্কুলের প্রথম দিনের গল্প। ছেলেকে সাজা দেওয়ার গল্প। কোথায় যেন তৈরি হয় একটা শখ্য। হয়তো তাই সাদ্দামের ফাঁসি হয়ে যাওয়ার পর একটা শূন্যতা গ্রাস করেছিল রক্ষীদের অনেককেই। একজন বলেই ফেলেছিলেন, মনে হচ্ছে, নিজের পরিবারের কেউ মারা গেছে। সেই মৃত্যুর জন্য যেন আমিই দায়ী।