মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪৮

আজ সেই প্রতীক্ষিত দিন

Published : 2017-02-23 23:45:00

অনলাইন ডেস্ক : মহান অমর একুশ আজ। বাঙালির এই গর্বের দিনটিরই অপেক্ষায় থাকে বইমেলা। অবশ্য কয়েকদিন আগে থেকেই মেলায় লেগেছে একুশের ছোঁয়া। গতকালের প্রচুর জনসমাগমে মনে হয়েছে, একুশের 
আগের দিনের সন্ধ্যাটিও যেন একুশেরই সন্ধ্যা ছিল। গালে-হাতে, পোশাকে একুশের চেতনা ধারণ করে মেলায় দল বেঁধে ছুটে এসেছেন পাঠক ও দর্শনার্থীরা। 
‘সেই বই’-এর স্টলে গতকাল প্রয়াত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘লীলাবতী’ বইয়ের ই-বই ভার্সনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এটির উদ্বোধন করেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। সঙ্গে ছিল হুমায়ূনের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত।
বইমেলায় কয়েক বছর ধরে শুরু হওয়া নতুন প্রবণতা হল, পাঠকরা বই কেনার পর বই ও লেখকের সঙ্গে ছবি তুলছেন, সেই সঙ্গে অটোগ্রাফ তো রয়েছেই। বই কেনার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করছেন পাঠকরা, এভাবে বইয়ের প্রচারণাও জমে উঠেছে। বিভিন্ন স্টলের সামনে অহরহই দেখা যায় এমন দৃশ্য, পাঠক বই কিনে বই ও লেখকের সঙ্গে ছবি তুলছেন। যেমন গতকাল সন্ধ্যায়ই কাগজ প্রকাশনীর সামনে দেখা গেল, আনিস আলমগীরের ‘ইরাক রণাঙ্গনে’ বইটির সঙ্গে ছবি তুলছেন এক পাঠিকা।  
সে সময়ই জার্নিম্যান বুকসের স্টলে কবি মুহাম্মদ সামাদকে বসে থাকতে দেখা গেল। তিনি জানালেন, জার্নিম্যানে তার অনূদিত কাব্য ‘সাত দেশের কবিতা’ প্রকাশ হয়েছে। এতে রয়েছে চীন, জর্জিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সার্বিয়া ও সুইডেনের কবিদের কবিতার অনুবাদ। 
লিটলম্যাগ চত্বরে সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত ছোটকাগজ ‘চিরকুট’-এর ১১তম সংখ্যার পাঠ-উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়। কাগজটি সম্পাদনা করেছেন হাসানুজ্জামিল মেহেদী। রামেন্দু মজুমদারকে অটোগ্রাফ দেওয়ায় ব্যস্ত দেখা গেল নাটকের পত্রিকা ‘থিয়েটার’-এর স্টলে। 
মেলার মূল মঞ্চে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় ‘উন্নতমানের শিক্ষা : সামাজিক অগ্রগতির চাবিকাঠি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ মূল প্রবন্ধে বলেন, শিক্ষার মান ও সমাজপ্রগতি উভয়ই বহুমাত্রিক প্রপঞ্চ। দুটোর মিথষ্ক্রিয়া অনেকাংশে বিশেষ পরিস্থিতি ও আবহনির্ভর। সব ক্ষেত্রে দুটোর সংযোগ প্রত্যক্ষ বা সরাসরি নয় এবং তা গাণিতিক হিসাবে নিরূপণযোগ্য নয়। কিন্তু সামগ্রিকভাবে মানসম্পন্ন শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। সাক্ষরতার দিক দিয়ে আমরা অনেকটা অগ্রগতি অর্জন করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যায়নি। তদুপরি তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষায় বাণিজ্যিক তত্পরতা এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রবেশ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখীন করেছে। এ বিষয়ে আশু ইতিবাচক পদক্ষেপ করা না গেলে প্রকৃত শিক্ষিত জাতি গঠনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল লোপা খানের পরিচালনায় ‘আবৃত্তিশীলন’-এর বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনা। এ ছাড়া আবৃত্তি পরিবেশন করেন ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়েরা হাবীব, ঝর্ণা সরকার এবং তামান্না নীপা।  
মেলার প্রবেশদ্বার খুলবে সকাল ৮টায় : আজ অমর একুশের দিনে মেলা শুরু হবে সকাল ৮টায় এবং চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। একুশের রাত সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। সকাল সাড়ে ৭টায় একুশে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে রয়েছে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে সভাপতিত্ব করবেন কবি মোহাম্মদ সাদিক। মেলার মূল মঞ্চে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ : বাঙালি গৌরবময় উত্তরাধিকার’ শীর্ষক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. আবদুল মমিন চৌধুরী। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সভাপতিত্ব করবেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নতুন বই
গতকাল মেলার ২০তম দিনে নতুন ৯৪টি বই এসেছে। গল্প ১৫, উপন্যাস ১৭, প্রবন্ধ ১, কবিতা ৩০, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ২, জীবনী ৫, মুক্তিযুদ্ধ ২, নাটক ১, বিজ্ঞান ১, ভ্রমণ ১, সায়েন্স ফিকশন ১ এবং অন্যান্য বিষয়ে ১৬টি বই গতকাল এসেছে। এ ছাড়া গতকাল ৩৮টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। 
গতকালের উল্লেখযোগ্য নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে—স্টুডেন্ট ওয়েজ থেকে সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের নাটক সমগ্র, পাঠশালা থেকে সেলিনা হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প’, বাংলাপ্রকাশ থেকে সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলালের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘ভূতের পাসওয়ার্ড’, গণ প্রকাশন থেকে মাসুদ মাযহারের প্রবন্ধ ‘সমাজ সংগ্রাম বীক্ষণ’, ঐতিহ্য থেকে ইশতিয়াক হাসানের শিকার কাহিনি ‘নীলগিরির আতঙ্ক’, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে আহমাদ মাযহারের সমালোচনা গ্রন্থ ‘আবদুল মান্নান সৈয়দের জসীম উদ্দীন’, অন্যপ্রকাশ থেকে পলাশ মাহবুবের গল্প ‘সূর্যমুখীরা দুই বোন’, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স থেকে আসাদ চৌধুরীর শিশুতোষ গল্প ‘কাছিম ও দুটি হাঁসের কথা’, বেহুলা বাংলা থেকে অপু মেহেদীর কাব্য ‘ঘুমের প্রেসক্রিপশন’, কোরাস থেকে আবদুল হামিদ মাহবুবের কাব্য ‘দিনগুলো হোক ঝলমল’ ইত্যাদি। - See more at: http://www.shokalerkhobor24.com/details.php?id=61833#sthash.meNeDGHN.dpuf