বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৬:১০

মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ

Published : 2017-05-31 23:23:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘূর্ণিঝড় মোরায় দেশের উপকূলীয় এলাকার ২ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। ঝড়ের সময় ৬১ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬০ জনই কক্সবাজারের; আর একজন রাঙামাটির বাসিন্দা।
গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র তুলে ধরেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব গোলাম মোস্তফা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও রাঙামাটির ৩১ উপজেলার ১০৬টি ইউনিয়ন ঘূর্ণিঝড় মোরায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার ৫৪ হাজার ৪৮৯টি পরিবারের ২ লাখ ৮৬ হাজার ২৪৫ জন মানুষ ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ১৯ হাজার ৯২৯টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং ৩৯ হাজার ৫৯৯টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ৫৯২ একর জমির পানের বরজের।
সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবর তারা পেয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজারে চারজন এবং রাঙামাটিতে দুজন। নিহত সবার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে আরও সহায়তা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন অতিরিক্ত সচিব।  ভোলার মনপুরা উপজেলায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় মায়ের কোলে থাকা এক বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুর মৃত্যুর খবর সংবাদ মাধ্যমে এলেও সে বিষয়ে কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হয়নি।
অতিরিক্ত সচিব জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরা সোমবার সন্ধ্যায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৯ জনকে ১১ হাজার ৮২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ঝড় কাটার পর দুর্গত ১৬ জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭০০ টন চাল এবং ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বুধবার কক্সবাজার জেলার জন্য ৩০০ টন চাল, ৩০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের জন্য ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। যেখানে যা দরকার আমরা সাহায্য দেব। জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে, আরও চাহিদা থাকলে জানাবেন, আমরা বরাদ্দ দেব।
এদিকে আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র আঘাতে জেলায় ৫২ হাজার ৫৩৯টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২৩টি বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৫ হাজার ৫১৬টি বসতবাড়ি। নিহত হয়েছে চারজন। আহত হয়েছে ৬০ জন। রামু উপজেলায় ৩০ একর ফসলি জমি ও পানের বরজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও উখিয়া উপজেলায় ৫০২ একর পানের বরজ, টেকনাফ উপজেলায় ১ হাজার ৩৮২ একর পানের বরজ এবং মহেশখালী উপজেলায় ১ হাজার ৪৮১ একর পানের বরজ ও ৮৯৮ একর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক বিবরণে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।   
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপ এবং কুতুবদিয়ায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ জরুরি ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছে। ওই সব এলাকায় পুরোদমে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নৌবাহিনীর মাধ্যমে সেন্টমার্টিন এলাকায় ৫ হাজার প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত খাদ্য সমাগ্রীর মধ্যে রয়েছে, ৫ টন চাল, ২ টন ডাল, ৩ টন মুড়ি, ৮ টন চিড়া, ২ টন গুড়, ৩ হাজার পিস মোমবাতি, ৩শ’ কেজি পলিথিন ব্যাগ, ১শ’ প্যাকেট ম্যাচ, ২০ টন বিশুদ্ধ খাবার পানি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী আবদুর রহমান জানান, সকালে কুতুবদিয়া এবং সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ ত্রাণ নিয়ে আসে। এসব ত্রাণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুত ছিল বলে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। জেলায় মোট ৫৩৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লক্ষাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যাও অনেক কম হয়েছে। তবে ঘরবাড়ি, পানের বরজ ও গাছাপালার প্রচুর ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘মোরা’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য সরকারি বিভিন্ন উপজেলায় ১১০ টন চাল ও নয় লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

আরও খবর