মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৪৮

ব্লগার রাজীব হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার

Published : 2017-02-23 23:44:00

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রায় চার বছর পর ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রেজায়ানুল আজাদ রানাকে গ্রেফতার করেছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটি) কর্মকর্তারা। গতকাল রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম 
থানা এলাকা থেকে একজন সহযোগীসহ রানাকে গ্রেফতার করা হয়। 
পুলিশের দাবি, রানা ব্লগার রাজীব হত্যার প্রধান পরিকল্পনাকারী। তার নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্যরা কয়েক বছর ধরে ব্লগার ও লেখকদের হত্যা করে আসছিল। প্রায় চার বছর ধরে সে দেশে ও মালয়েশিয়ায় আত্মগোপনে ছিল। 
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের শুরুর দিকে ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে রানা মালয়েশিয়ায় যায়। কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়ান পুলিশ রানাকে আট?ক? করে গতকাল বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে পাঠানোর পর তাকে অনুসরণ করে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।
২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় রানার মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। 
ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা রানা খুবই দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। ব্লগার রাজীব হত্যার মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া সে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন ও মনিপুর স্কুলের শিক্ষক হত্যাচেষ্টা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছিল পুলিশ। দুপুর ২টার দিকে উত্তরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার কাছ থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৩ সালে মিরপুরের পল্লবীতে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যার পরপরই রানার নাম আসে। কিন্তু ওই ঘটনার পর থেকে পলাতক অবস্থায় সে আনসারুল্লাহের স্লিপার সেল পরিচালনা করত। তার নির্দেশনা এবং পরিকল্পনাতেই একের এক ব্লগার ও প্রকাশকদের হত্যা করা হয়। ব্লগার রাজীব হত্যার পর ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্লগার ও লেখক অভিজিত্ রায়, ৩০ মার্চ তেজগাঁওয়ে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান বাবু, ১২ মে সিলেটে ব্লগার অনন্ত বিজয় দাস, ৭ আগস্ট ব্লগার ঢাকায় নিলয় নীল, ৩১ অক্টোবর শাহবাগে প্রকাশক ও লেখক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যাসহ কলাবাগানে সমকামীদের অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যার ঘটনার সঙ্গে এই রানার যোগসূত্র রয়েছে। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজীব হত্যা মামলায় রানাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। 
গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রানার গ্রামের বাড়ি ফেনীর দাগনভূঞার উত্তর জয়লস্করপুর। তার বাবার নাম আবুল কালাম আজাদ। মায়ের নাম মমতাজ বেগম। সে ঢাকায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই-ব্লকের ১৮৭/সি নম্বর বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকত। রানা ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও নটর ডেম কলেজ থেকে ২০০৭ সালে এইচএসসি পাস করে। এরপর সে নর্থসাউথ ইউনিভার্ির্সটিতে ভর্তি হয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আধ্যাত্মিক নেতা মাওলানা জসিম উদ্দিন রাহমানীর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিল। মূলত তার মাধ্যমেই নর্থ সাউথসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। 
গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রানা বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষাতে দক্ষ। তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়ে তার ভালো দখল রয়েছে। এ কারণে অল্প দিনেই সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের শীর্ষ নেতা হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থাতেই দেশের অভ্যন্তরে থাকা আনসারুল্লাহ সদস্যদের টার্গেট নির্ধারণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।  - See more at: http://www.shokalerkhobor24.com/details.php?id=61836#sthash.hOdHx3dl.dpuf