মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪৬

সময়ের পেশা এইচআরএম

ক্যারিয়ার

Published : 2017-03-18 16:03:00

মো. অলিউল্লাহ : একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নির্ভর করে সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। আর সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতির ওপর। সারাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মানবসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। বিশ্বে এখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, শুধু মূলধন এবং শ্রম থাকলেই উন্নয়ন হয় না, এজন্য প্রয়োজন মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সবাই তার লক্ষ্য স্থির করে প্রতিযোগিতায় নামে। সবাই সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য মানবসম্পদকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আর এই পদক্ষেপ খুলে দিচ্ছে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।

কী ধরনের কাজ
প্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মী লাগবে কিনা, কোন বিভাগে লাগবে, কতজন লাগবে কিংবা নতুন কোনো কাজের জন্য কতজন কর্মী প্রয়োজন? তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গুণাবলি কী হবে? কোন প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ হবে, যেমন-লিখিত, মৌখিক, মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে কিনা, সে বিষয়গুলো নির্ধারণ করা এইচআর ম্যানেজারের কাজ। এছাড়া কর্মীদের কাজের ধরন অনুসারে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা, কে কোন কাজের যোগ্য, ভবিষ্যতে কোন বিভাগে কার ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে এ বিষয়গুলো লক্ষ রাখা, কর্মীদের বিভিন্নভাবে আর্থিক ও মাসিক প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার মধ্যে সুসম্পর্ক নিশ্চিত করাও এইচআর ম্যানেজারের দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অভাব-অনুযোগ সম্পর্কে খোলামেলা আলোচনা না করলে কিংবা সঙ্কোচ থাকলে কর্মীর মনে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়। ফলে কাজের প্রতি মনোযোগ কমে যায়। এই সমস্যা দূর করতে সবার মধ্যে আন্তরিক মনোভাব তৈরি করে প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ক্ষোভ, হতাশা কিংবা আক্রোশে কেউ যেন অন্যায়ের শিকার না হন সেদিকে লক্ষ রাখাও এইচআর ম্যানেজারের কাজ।
কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করলে কাজের প্রতি উত্সাহ বেড়ে যায়। যারা প্রতিষ্ঠানের কাজে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকেন, তাদের কাজের মূল্যায়নের মাধ্যমে উত্সাহ প্রদান করা। ব্যাকগ্রাউন্ডের কর্মীদের তাদের স্কিল সেট বা দক্ষতা অনুযায়ী কাজে লাগিয়ে তাদের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনাও এইচআর ম্যানেজারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। কর্মীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, এমপ্লয়ি রেকর্ড রাখা, পে-রোল প্রসেসিং, বোনাস নির্ধারণ, ছুটির হিসাব রাখা-এসব দায়িত্বও সামলাতে হয় তাদের। তাছাড়া এখনকার সব নামি প্রতিষ্ঠানের কাছেই একটা বড় ব্যাপার হল-করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি সামাল দেওয়া। এর মূল অর্থ হল সমাজ এবং শিল্পের ভেতর যোগসূত্র স্থাপন। কোম্পানি যেখানে অবস্থিত সেই জায়গায় বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে এই দায়িত্ব সামলায় কোম্পানির হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগই।

কোথায় পাবেন কাজ
বাংলাদেশে এইচআর এবং অ্যাডমিন একেবারেই নতুন নয়। এ দুটি বিভাগের কাজ আলাদা হলেও আমাদের দেশে অনেক প্রতিষ্ঠানেই এইচআর থেকেই অ্যাডমিন বিভাগের কাজ করা হয়। নব্বই দশকের প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে বড় কোম্পানিগুলো এই ডিপার্টমেন্ট চালু করলেও ধীরে ধীরে সব কোম্পানিতে এর গুরুত্ব এবং চাহিদা দুটিই বেড়েছে। যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানই বলুন না কেন সবাই এখন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। এছাড়া এনজিও, ব্যবসায়ী, সেবাদানকারী যেকোনো প্রতিষ্ঠানেই রয়েছে এইচআর বিভাগ। UNICEF, WHO, UNESCO, UN, CARE, Action Aid, Save the Children প্রভৃতি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানেও দক্ষ এইচআর ব্যবস্থাপকরা চাকরি পেতে পারেন।

কারা আসবেন এই পেশায়
এইচআর ম্যানেজার যারা হতে চান তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু গুণ থাকলে এই পেশায় সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, ধৈর্য ধরে কথা বলা এবং শোনার ক্ষমতা, মাল্টি টাস্কিং অর্থাত্ একসঙ্গে বিভিন্ন দায়িত্ব সামাল দেওয়ার ক্ষমতা প্রভৃতি। সেই সঙ্গে চাই দুর্দান্ত কমিউনিকেশন স্কিল। অর্থনীতি এবং ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান থাকাটাও জরুরি। কম্পিউটারের প্রাথমিক জ্ঞানও প্রয়োজন। এছাড়া তাকে স্মার্ট থাকতে হবে এবং হতে হবে দক্ষ, উদ্যমী, পরিশ্রমী, বিভিন্ন মানবীয় গুণ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা, চিন্তায়, কাজে সত্ এবং আন্তরিক, ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সমস্যা বের করে আনার ক্ষমতা, পক্ষপাতহীন কাউকে ব্যক্তিগত শত্রুতার বশবর্তী হয়ে আক্রমণ না করার মনোভাব, যে প্রতিষ্ঠানে কাজ কবেন সে প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ এবং নীতিমালা সম্পর্কে ভালো ধারণা, যেকোনো সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞ এবং বিচক্ষণতার পরিচয়সহ এইচআরডি ব্যবস্থাপকের ব্যবহার হবে অমায়িক। কোনোভাবেই বদমেজাজি হওয়া যাবে না; কর্মীদের কাজের প্রতি মনোযোগী এবং প্রদায়নার জন্য তাকে ভালো প্রদায়ক হতে হবে এবং অবশ্যই তাকে সত্যবাদী, সময়নিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ হতে হবে।

পড়াশোনা
যেকোনো সংস্থায় এইচআর এক্সিকিউটিভ বা ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগ দিতে গেলে প্রয়োজন বিবিএ, এমবিএ ডিগ্রি। দেশের প্রায় প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই ডিগ্রি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিবিএ, এমবিএ শিক্ষার্থীদের মেজর কোর্স হিসেবে বিষয়টি পড়ানো হয়।