মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৪৯

তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার প্রয়াণ

Published : 2017-05-30 22:09:00, Updated : 2017-05-30 22:18:36
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার জন্ম ১৯১১ সালে পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া গ্রামে। বিএ পাসের পর তিনি পিরোজপুর আদালতে কেরানির চাকরি নেন। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সহায়তায় তদানীন্তন বঙ্গীয় সরকারের জনসংযোগ বিভাগের বরিশাল জেলা শাখার জনসংযোগ অফিসার পদে নিযুক্ত হন। কিছুকাল পর সোহরাওয়ার্দীর পরামর্শে সরকারি চাকরিতে ইস্তফা দেন। সোহরাওয়ার্দীর সহায়তায় তিনি কলকাতায় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ অফিসের সেক্রেটারি পদে নিয়োগ পান। সেই সময় থেকেই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ও রাজনৈতিক মতাদর্শে সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী হন। সোহরাওয়ার্দীর প্রতিষ্ঠিত দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সেক্রেটারি হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে গেলে ঢাকায় চলে আসেন। আওয়ামী লীগ গঠিত হলে দলীয় মুখপত্র হিসেবে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক প্রকাশিত হয়। মানিক মিয়া পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন। তার সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ইত্তেফাক দৈনিকে রূপান্তরিত হয়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি হলে তা লঙ্ঘনের অভিযোগে মানিক মিয়া গ্রেফতার হন। প্রায় এক বছর কারাভোগ করেন। সামরিক শাসনবিরোধী ছাত্র-বিক্ষোভের ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে পুনরায় গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলনের প্রতি দৃঢ় সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ইত্তেফাক ছয় দফার মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হতে থাকলে আইয়ুব সরকারের রোষানলে পড়ে গ্রেফতার হন। একই দিন সরকার কর্তৃক ইত্তেফাকের প্রকাশনা নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং এর ছাপাখানা নিউ নেশন প্রিন্টিং প্রেস বাজেয়াফত করা হয়। পরে গণ-আন্দোলনের চাপে সরকার কর্তৃক ইত্তেফাকের প্রকাশনার ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার হয়।
বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভীক সাংবাদিক এবং সম্পাদক হিসেবে খ্যাত মানিক মিয়া দেশে নির্ভেজাল পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পূর্ববাংলার আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে বাঙালিদের মুক্ত করার জন্য ইত্তেফাকের ‘মঞ্চে নেপথ্যে’ উপ-সম্পাদকীয় কলামে মুসাফির ছদ্মনামে বিরামহীন লিখে যান। ১৯৬৯ সালের ৩১ মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।