শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৩৭

মাতৃভাষা দিবসে হামলার পরিকল্পনা ছিল!

Published : 2017-02-23 23:44:00

নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) সদস্যরা। সংগঠনটির তিন সদস্যকে এই অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হল-ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মোস্তফা ওরফে শামীম (২৫), একই জেলার ফুলবাড়িয়ার আবু রায়হান ওরফে হিমেল (২৪) ও ঢাকার ধামরাইয়ের শরিফুল ইসলাম ওরফে শাহীন (২১)। গ্রেফতারকৃতদের  মধ্যে একজন গায়েরে এহসার সদস্য। গতকাল ভোর ৪টা থেকে সকাল পৌনে ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর কাঁচপুর ও মোগড়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি জিহাদি বই, ৪৬টি লিফলেট, পাঁচটি দেশি অস্ত্র (চাপাতি ও চাকু), পাঁচটি ককটেল, বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও দুটি স্কচটেপ উদ্ধার করা হয়।  গতকাল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজি র্যাব-১১-এর ব্যাটালিয়নে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান। তিনি জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে নারায়ণগঞ্জে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল জঙ্গিরা। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সক্রিয় সদস্য। তারা সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক আমির শায়খ আবদুর রহমানের অনুসারী তারা। জঙ্গি তত্পরতার কারণে শায়খ আবদুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা নিজ নিজ এলাকা ও এলাকার বাইরেও সাংগঠনিক বিভিন্ন ছদ্ম নাম ব্যবহার করে সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিল।  লে. কর্নেল কামরুল আরও জানান, গ্রেফতার করা আবু রায়হান ওরফে হিমেল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের সরকারি সফর আলী কলেজে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। ২০১৪ সালের শেষদিকে সে তৌহিদের (৩২) মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। তৌহিদের মাধ্যমে তার জেএমবির অন্য সদস্য সাকিবের (২৫) সঙ্গে পরিচয় হয়। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বাজারে সাকিব প্রায়ই তার সঙ্গে দেখা করতে আসত এবং সাংগঠনিক বিষয়ে তারা আলোচনা করত। সে সাকিবকে ইয়ানত (সাংগঠনিক খরচ) বাবদ ২শ’ টাকা মাসিক হারে চাঁদা দিত। সাকিবের মাধ্যমে অন্য জেএমবির সদস্য আকাশ, রোকন ও আমিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১৫ সালের শেষদিকে সে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাত। র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত মোস্তফা ওরফে শামীম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে তার এলাকার মাদ্রাসায় ভর্তি হয় এবং সংসারের অভাব-অনটনের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকে সে। ২০১৩ সালের শেষদিকে সে নতুন মুসলমান হওয়া হাসমত (৩০) নামে এক অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে জিহাদে উদ্বুদ্ধ হয়। তখন থেকে নিয়মিত এলাকায় বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে যোগ দেয়। এরপর ২০১৪ সালের শেষদিকে তার নিজ গ্রামের সাকিবের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে সাকিবের মাধ্যমে গাজীপুরের সালনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় সেসহ মোট ছয়জন মিলে ২৫ দিনের জিহাদি প্রশিক্ষণ নেয়। সাকিবের মাধ্যমে সে মোবাইলে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার ভিডিও ও লেকচার পেত। সে সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনের জন্য প্রতি মাসে ইয়ানত বাবদ ৫০-১০০ টাকা দিত। ২০১৫ সালের শেষদিকে সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনের অন্য এক সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে সে ইয়ানত বাবদ টাকা সাকিবের পরিবর্তে ওই সদস্যের কাছে দিত। প্রশিক্ষণ গ্রহণকালে আসাদ (২৫), শিমুল (২৬) এবং সাইদুল (২৬) তাদের প্রশিক্ষণ দিত। সংগঠনের জন্য সে এলাকার বাছেদ ও সিদ্দিক ওরফে আকাশ ও সোহেল রানাকে প্রশিক্ষণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে সাকিবের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকা পাঠায়। সে ২০১৫ সালের শেষদিকে চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সে হিজরতের উদ্দেশে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত শরিফুল ইসলাম ওরফে শাহীন ধামরাইয়ের শরফবাগ ইসলামিয়া কামেল মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পাস করে। সে ২০১৫ সালের প্রথম দিকে কাঠমিস্ত্রির কাজ শেখার জন্য ঘাটাইলে একটি কাঠের দোকানে কাজ নেয়। ২০১৫ সালে মোস্তফা ও সাকিবের মাধ্যমে সংগঠনে যোগদান করে এবং সংগঠনের সিদ্ধান্তে সে ধৃত মোস্তফার শ্যালিকাকে বিয়ে করে। পরে সে বাটা জুতার কোম্পানিতে কিছুদিন কাজ করে। সে সংগঠনের জন্য নিয়মিত ইয়ানত দিত। সে অস্ত্র প্রশিক্ষণের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানের কারণে সে নভেম্বর মাসে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত তিন জেএমবি সদসদ্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। - See more at: http://www.shokalerkhobor24.com/details.php?id=61835#sthash.BHqU1cyK.dpuf