শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১৯

আসন্ন বাজেটে সব রফতানি পণ্যে উৎসে কর বাড়ছে

০.৭০ থেকে বেড়ে ১ শতাংশ হচ্ছে

Published : 2017-05-26 00:10:00
শাহ্জাহান সাজু: আসন্ন বাজেটে গার্মেন্টসসহ সব ধরনের রফতানিতে উৎসে কর বিদ্যমান শূন্য দশমিক ৭০ (০.৭০%) থেকে বেড়ে এক শতাংশ করা হচ্ছে। আগামী ১ জুন বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ ঘোষণা দিতে পারেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদও এক আলোচনা অনুষ্ঠানে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় রফতানিতে উেস কর বাড়তে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

জানা যায়, দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮২ শতাংশই আসে গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক খাত থেকে। গার্মেন্টস রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ ইতোমধ্যে নানামুখী সঙ্কটের কথা তুলে ধরে রফতানির কর বিদ্যমান ০.৭০ শতাংশ থেকে শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে রফতানির প্রণোদনা বাড়িয়ে যে কোনো বাজারের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছিল। এছাড়া স্থিতিশীল কর কাঠামো দাবিও জানিয়েছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, প্রতি বছর কর কাঠামো পরিবর্তন হওয়ার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়।

গত বছরের বাজেটে রফতানির কর দশমিক ৬০ (০.৬০%) থেকে এক দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে গার্মেন্টস শিল্পের উদ্যোক্তাসহ রফতানিকারকদের জোর দাবিতে তা দশমিক ৭০ শতাংশে (০.৭০%) নামিয়ে আনা হয়।

বর্তমান অর্থবছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে বছর শেষে রফতানি আয় ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছর রফতানির ক্ষেত্রে উেস কর বাবদ দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি আদায় হতে পারে। এর ওপর দশমিক ৩০ শতাংশ কর বাড়ানো হলে আরও ৮০০ কোটি টাকা বাড়তি কর পেতে পারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

প্রসঙ্গত, রফতানির মূল্যের ওপর (এফওবি) উেস কর ধার্য করা হয়ে থাকে। বর্তমানে রফতানি ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে মোট প্রায় ৬০টি খাত থেকে উেস কর কর্তন করা হয়ে থাকে। মোট আহরিত করের ৫৭ শতাংশ আসে উেস কর কর্তনের মাধ্যমে।