মঙ্গলবার ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৪৭

আইডিবি আপত্তি তুললে ইসলামী ব্যাংকে হস্তক্ষেপ : অর্থমন্ত্রী

Published : 2017-05-21 23:28:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকার ইসলামী ব্যাংকে এমনি এমনি হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এর বিদেশি শেয়ারহোল্ডার ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) আপত্তি তুললে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে। তবে ভ্যাট হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা হবে। এটা একটা রেটে করা হবে। অর্থাত্ এক স্তরে অভিন্ন হারে করা হবে। ভ্যাট কমিয়ে আগামী ২৫ অথবা ২৬ মে নতুন হার নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।
সৌদি আরবের জেদ্দায় আইডিবির সম্মেলন থেকে ফিরে এসে গতকাল সচিবালয়ে ডিসিসিআই ও ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা
বলেন। সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডসভায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে-এ তথ্য অবহিত আছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডসভায় তো এখন লড়াই চলছে। তবে এটা বোর্ডের বিষয়। এতে সরকার কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এর বিদেশি পার্টনার আইডিবি যদি সরকারের কাছে অভিযোগ করে, সে ক্ষেত্রে সরকার হস্তক্ষেপ করবে।
তিনি বলেন, আগামী ২৫-২৬ মে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে ভ্যাট হার ঠিক করা হবে। ১৫ শতাংশ ভ্যাট নিয়ে ব্যবসায়ীদের আপত্তি রয়েছে। তাই এটাকে কমানোর ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ভ্যাট নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি জানিয়ে মুহিত জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ভ্যাট নিয়ে আপত্তির বিষয়টি জানিয়েছেন।
২০১২ সালে ভ্যাট আইন করার পর একটু একটু করে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, হঠাত্ কেন থ্রেট যে আমরা বন্ধ করে দেব।
সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর বিষয়ে মুহিত বলেন, বর্তমানে ব্যাংকে আমানতের সুদ ও বিদ্যমান সঞ্চয়পত্রের সুদের হারের ব্যবধান ৪ শতাংশ, যা ২ থেকে ১ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত। এ কারণেই এবার বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে, যা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে।  
এর আগে বিআইএসের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বার্ষিক নিবন্ধন ফি থাকবে না। এ জন্য ইন্স্যুরেন্স অ্যাক্ট পরিবর্তন করা হবে।
বৈঠকে ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে ২২ থেকে ২৯ শতাংশে বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শিল্পায়ন সহজীকরণে আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে গত ৮ বছরে বিশেষত জ্বালানি ও বিদ্যুত্ খাতে বড় ধরনের ভূমিকা নিয়েছে।  তবে ঢাকা চেম্বার মনে করে, ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি অর্জন করার জন্য অবকাঠামো খাত উন্নয়নে বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়ন পূর্বশর্ত। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ব্যবসার পরিপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় আধুনিক অবকাঠামো, প্রজেক্ট বাস্তবায়ন কার্যক্রম গতিশীলকরণ এবং ভূমি বিরোধ ও ভূমি আইনের আধুনিকায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।