শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:১০

সাভারের সিঅ্যান্ডবি গেট থেকে জাবি গেট পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য

Published : 2017-05-21 23:28:00
মো. খালেদুন রাতুল, জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান গেট পর্যন্ত অংশটিতে ছিনতাই চরম আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামলেই আরিচা সড়কের এই এক কিলোমিটার পথ চলে যায় ছিনতাইকারীদের দখলে। বিভিন্ন সময় ছিনতাইকারীদের ছুরি-চাপাতি-রামদার কোপে আহত হয়েছে পথযাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাভার থেকে রিকশায় চেপে ফেরার পথে এক হবু দম্পতি ছিনতাইয়ের শিকার হন। সোহেল নামে ছিনতাইয়ের শিকার একজন বলেন, ‘সিঅ্যান্ডবি মোড় পার হওয়া মাত্রই একটি চলন্ত মাইক্রোবাস থেকে ছিনতাইকারীরা থাবা দিয়ে আমাদের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়’।  
এর আগে গত সোমবার ফার্মেসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফখরুল ইসলামের বোন এবং বোন জামাই সাভার থেকে অটোরিকশায় ক্যাম্পাসে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। তারা তিন মাসের শিশুসহ হাসপাতাল থেকে ফিরছিলেন। চারজন মুখোশধারী অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা, গহনা এবং অনান্য জিনিস ছিনিয়ে নেয়। নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ ওসমানী জানান, এমনই এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, তারা আমার হাতে চাপাতির কোপ বসিয়ে সব ছিনিয়ে নেয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত জায়গাটিই ছিনতাইকারীদের অভয়াশ্রম। রাস্তার দু’পাশে ঘন ঝোপঝাড় এবং সড়ক বাতি না থাকায় ছিনতাইকারীরা জায়গাটিকে ছিনতাইয়ের উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই ১ কিলোমিটার পথের বিভিন্ন অংশে ওঁত্ পেতে থাকে তারা। পথযাত্রী, ধীরগতির যানবাহনের (রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান ইত্যাদি) যাত্রীরা
এদের মূল টার্গেট। ছিনতাইকারীদের অধিকাংশই মুখোশধারী এবং সশস্ত্র।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ওপরে লোহার বেড়া কেটে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ছিনতাই শেষে অনেকেই এই স্থান দিয়েই নির্বিঘ্নে পালিয় যায়। অধিকাংশ ছিনতাইকারীই বহিরাগত এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে জাবি ক্যাম্পাসের মাদকাসক্ত কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে বলে অভিযোগ অনেকের।
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, স্থানটি ক্যাম্পাসের বাইরে হওয়ায় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে কোনো অঘটনের খবর পেলে পুলিশকে জানানো হয়।
সাভার হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে প্রথমেই তিনি বলেন, আমাদের কঠোর পদক্ষেপের কারণে গত দুই তিন মাসে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুলিশের টহল রয়েছে। তবে গত সপ্তাহের দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা তাকে জানালে তিনি বলেন, রিকশারোহী এবং পথচারীরাই মূলত ছিনতাইয়ে শিকার হতে পারে। ইতোমধ্যেই আমরা অনেক ছিনতাইকারীকে ধরে আশুলিয়া থানায় দিয়েছি। তবে কিছু কিছু ছিনতাইকারী বিশ্ববিদ্যালয় সীমানা প্রাচীর টপকে লোহার বেড়া না থাকা অংশটি দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে যায়। এ ব্যাপারে তিনি সবাইকে সচেতন থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মীর মশাররফ হোসেন হলের দায়িত্বরত কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী জানান, সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পুলিশ মোটরসাইকেলে টহল দেয় এরপর আর দেখি না। একই মন্তব্য করেন আরও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেট এবং সিঅ্যান্ডবি মোড়ের দোকানদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা মন্তব্য করেন, পুলিশি তত্পরতা জোরদার, পথটিতে সড়ক বাতি স্থাপন, রাস্তার দু’পাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, লোহার বেড়াটি পুনর্নিমাণসহ সচেতনতাই পারে ওই স্থানটির ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য কমাতে।