সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৪:৩৪

২৯ মামলায় জামিনে আছেন: এবার মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

Published : 2017-05-21 23:28:00
গাজীপুর প্রতিনিধি: ২৯টি মামলায় জামিন লাভের পর ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে গতকাল দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নতুন মামলা দায়ের করেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে জয়দেবপুর থানায় এ মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম। মামলার বাদী বলেন, এটি হল দুদকের
পক্ষ থেকে মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা। প্রথম মামলাটির বাদীও ছিলেন সামছুল আলম।
সম্প্রতি আদালতে ওই মামলার চার্জশিটও দাখিল করা হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের শর্ত লঙ্ঘন করে অন্য খাতে ৭ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৭৫ টাকা ব্যয় ও অনুদান প্রদানের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে দ্বিতীয় মামলাটি।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন ২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সময়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন স্মারকে ৯ কোটি টাকা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ বরাদ্দের শর্ত ছিল ‘বাজেটভুক্ত নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প ব্যতীত অন্য কোনো খাতে এ অর্থ কোনো অবস্থাতেই ব্যয় করা যাবে না। স্যানিটেশন সুবিধা শতভাগ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত অর্থের ২০ ভাগ স্যানিটেশন কাজে ব্যয় করতে হবে এবং অগ্রগতির প্রতিবেদন যথাসময়ে অত্র বিভাগে প্রেরণ করতে হবে।’ সিটি মেয়র মান্নান বরাদ্দের ৯ কোটি টাকা সোনালী ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব হিসাব নম্বরে জমা রাখেন। পরবর্তীতে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং ১/২০১২-১৩ মূলে বিজ্ঞপ্তি এবং বিভিন্ন বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে বিল ও অনুদান বাবদ ৭ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৭৫ টাকা ব্যয় করেন। ওই ব্যয়গুলো করা হয়েছে ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি মেয়াদে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ের সুস্পষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করে বাজেটভুক্ত নির্দিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প ব্যতীত অন্য খাতে ব্যয় এবং অনুদান বাবদ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের কোনো অনুমোদন গ্রহণ করা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান ব্যক্তিস্বার্থে নিজে ক্ষমতাবান হওয়ার জন্য এবং অন্যকে লাভবান করার জন্য মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
এমএ মান্নানের আইনজীবী আবু হানিফ জানান, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমা হামলার মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মেয়র এমএ মান্নানকে ঢাকার বারিধারার বাসভবন থেকে প্রথম গ্রেফতার করা হয়। এরপর একে একে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে থাকে। পরে হাইকোর্ট থেকে ২২টি মামলায় জামিনের পর গত বছরের ২ মার্চ তিনি কারামুক্ত হন এবং এপ্রিল মাসে তিনি মেয়র পদ ফিরে পান। এ অবস্থায় গত বছর ১৫ এপ্রিল এমএ মান্নানকে ফের নাশকতার তিনটি মামলায় গ্রেফতার করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই মাসে তাকে ফের বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ২৯টি মামলা হলেও সব মামলায় তিনি জামিন লাভ করে এ বছরের ৬ জানুয়ারি ফের কারামুক্ত হন। দ্বিতীয় দফায় আদালত কর্তৃক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও মেয়র মান্নান চেয়ারে বসেননি। এমতাবস্থায় দুদক এ মামলাটি দায়ের করেছে।