বৃহস্পতিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৭, রাত ১২:০৩

৮ উইকেটে জয় বাংলাদেশের: দাপুটে বোলিংয়ের পর নিখুঁত ব্যাটিং

Published : 2017-05-19 23:28:00,
এম. এম. কায়সার: এই ম্যাচের বোলিং-ব্যাটিংকে যদি ১০০ নম্বরের পরীক্ষা ধরা হয়, তবে সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশ পুরোপুরি ‘ডাবল এ প্লাস!’
বোলিংয়ের পুরোটাই হল প্রায় নিঁখুত। আর তাতেই আয়ারল্যান্ড আটকে গেল মাত্র ১৮১ রানে।
এই রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং যে বোলিংয়ের প্রশংসাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শুরুর ১০ ওভারেই কোনো ক্ষতি ছাড়াই স্কোরবোর্ডে রান উঠে এলো ৬৯। যেভাবে দুই ওপেনার খেলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল ওপেনিং জুটিতেই তিন অঙ্কের স্কোরে পৌঁছে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু হাফসেঞ্চুরি থেকে তিন রান দূরে থাকতে তামিম শরীর থেকে অনেক বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেটাই আয়ারল্যান্ডের প্রথম উত্সবের উপলক্ষ। এবং বলা যায় একমাত্র!
৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ যখন মাঠ ছাড়ছে তখনও এই ম্যাচের ১৩৭ বলের খেলা বাকি!  
এই হিসেবটাই জানান দিচ্ছে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েই ম্যাচটা জিতেছে বাংলাদেশ। মালাহাইডের এই মাঠে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচটা বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছিল। কাল অবশ্য বৃষ্টি কোনো সমস্যা করেনি। ডাবলিনের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায়ও এতদিনে বেশ ভালোই মানিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই কন্ডিশনে শুরুতে একটু দেখেশুনে খেললেই উইকেটে জমে যাওয়া সম্ভব। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারের ওপেনিং জুটিতে তারই প্রমাণ মিলল। শুরুর ব্যাটিংয়ে তামিমের চেয়ে সৌম্য সরকারকে একটু বেশি আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা গেল। ফুললেংথের বলে তার ফ্লিক শটটা ছিল দেখার মতো। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা সৌম্য সরকার এই ম্যাচেও চোখ জুড়ানো ভঙ্গিতে ব্যাটিং করলেন। ১৬ ওভারেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১০০ রান উঠে এলো। সৌম্যের ৬৮ বলে হার না মানা ৮৭ রানের হাফসেঞ্চুরিতে ম্যাচ জয়ের বাকিটা পথ সহজেই পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ।
ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের কাজটা সহজ হয়ে যায় মূলত বোলিং দক্ষতার সুবাদে। কন্ডিশন যেমনই হোক, ১৮১ রান কখনই কোনো চ্যালেঞ্জিং স্কোর হতে পারে না। যদি না রান তাড়ায় নামা দল বড় কোনো ভুল করে। এই ম্যাচের সবকিছুতেই যে বাংলাদেশ নিখুঁত ক্রিকেট খেলল।
টসে জিতে মাশরাফি বোলিং বেছে নেন। ম্যাচের নবম বলেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পল স্টার্লিংকে নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আউট করেন মুস্তাফিজ। তিন জাতি এই সিরিজে সত্যিকারের সেই ‘ফিজ’কেই যেন ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও বোলিংয়ে মুস্তাফিজ নিজের কারিশমা ঠিকই দেখান। কাল মাত্র ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বোলার যে তিনিই। আর আগের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান খরুচে হওয়া মাশরাফিও ঠিক ঘুরে দাঁড়ান কাল। ৬.৩ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট। আগের ম্যাচে সবচেয়ে খরুচে। পরের ম্যাচে রান খরচে সবচেয়ে কৃপণ! দুটি ওয়াইডসহ মুস্তাফিজ ম্যাচে ৯ ওভার বল করেন। অর্থাত্ সব মিলিয়ে করলেন ৫৬ বল। তার এই ৫৬ বলের মধ্যে ৪৩ বলে আয়ারল্যান্ড কোনো রানই নিতে পারেনি!
এবার মাশরাফির হিসেবটা শুনুন-ম্যাচে সব মিলিয়ে মাশরাফি করেন ৪২ বল। যার ২৮টিই ছিল ডট!
আগের ম্যাচের একাদশ থেকে একটি বদল এনে এই ম্যাচে নামে বাংলাদেশ। মেহেদি হাসান মিরাজের জায়গায় আসেন সানজামুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনার এর আগে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকলেও কখনই কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। কাল পেলেন এবং জীবনের প্রথম ম্যাচের প্রথম ওভারেই উইকেট শিকার করলেন। ৫ ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট পাওয়া সানজামুল নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডেকে অবশ্য অন্য কারণে মনে রাখবেন।
তার অভিষেকের ম্যাচ যে জিতেছিল বাংলাদেশ!

 

আরও খবর