শুক্রবার ২৮ জুলাই, ২০১৭, রাত ১২:৪৪

খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল: বাতিল হচ্ছে ৫ জেলায় গ্যাস সরবরাহ প্রকল্প

Published : 2017-05-19 23:28:00, Count : 288
মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন: ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয়ের পর বাতিল হচ্ছে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলায় গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্প। ওই প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১০ সালে। দুর্বল বাস্তবায়ন অগ্রগতি এবং আবাসিক গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে প্রকল্পটি গুরুত্ব হারিয়েছে। এ কারণে প্রকল্পটি এখন বাতিল করার প্রস্তাব এসেছে।  
ইতোমধ্যে ৩৪৭ কোটি টাকার মালামাল কেনা হয়েছে, যা গত তিন বছর ধরে নষ্ট হচ্ছে। এখন যদি প্রকল্পটি শেষ করা হয় তাহলে আরও ৩০০ কোটি টাকা অপচয় হবে। এ অবস্থায় প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণার পক্ষে মত দিয়েছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।
আইএমইডির পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ৩৪৭ কোটি টাকার মালামাল ও যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। যার মধ্যে এডিবির ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে ২৪২ কোটি ও স্থানীয় মুদ্রায় ১০৫ কোটি এবং গাড়ি ক্রয়সহ মোট ব্যয় হয়েছে ৩৭১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ফুলতলা উপজেলা অফিসের স্টক ইয়ার্ডে বিভিন্ন ব্যাসের ৮৪৫ কিলোমিটার পাইপ ও ৬টি গোডাউনে যন্ত্রাংশ-মালামাল রাখা হয়েছে। এসব এখন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। এর মধ্যে বেঙ্গল টেক্সটাইলে অবস্থিত ৩টি গোডাউনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো। কিন্তু মামুন এন্টারপ্রাইজের ১টি ও এম কে ট্রেডিংয়ের ২টি গোডাউন রাস্তার পাশে। গোডাউনে অবস্থিত অধিকাংশ যন্ত্রাংশের বাক্সের মুখ খোলা। খোলা আকাশের নিচে রাখায় প্রায় ১৫৬ কোটি টাকার পাইপে ইতোমধ্যে মরিচা পড়ে গেছে। সাধারণত এসব পাইপের স্থায়িত্বকাল হয়ে থাকে ২০ বছর। কিন্তু এর মধ্যে ৩ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়েছে। ২৮ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প পরিচালকসহ মাত্র ৪ জন কাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০০৬ সাল। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) অনুমোদন পায়। অনুমোদিত ডিপিপিতে প্রকল্পটি ২০১২ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুর আগেই দাতা সংস্থার চাপে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে পেট্রোবাংলার পরিবর্তে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (এসজিসিএল) মাধ্যমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটি আবারও  একনেকে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ জেলা শহরে গ্যাস বিতরণ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাসের (২ ইঞ্চি থেকে ২০ ইঞ্চি) ৮৪৫ কিলোমিটারের পাইপ, ১২টি ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটরি গ্যাস স্টেশন (ডিআরএস) ও কোম্পানি প্রধানের কার্যালয়সহ জেলা পর্যায়ে ৫টি অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।  
প্রকল্প বাস্তবায়নে এ যাবত্ মোট ৩৭১ কোটি টাকা ব্যয় হয়। যার মধ্যে এডিবির ঋণ থেকে ব্যয় হয়েছে ২৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সরকারি তহবিল থেকে ১২৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। স্থানীয় মুদ্রায় অনুমোদিত অর্থের অতিরিক্ত ব্যয় হয়, যা কোম্পানি অর্থে পরিশোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজের ভৌত অগ্রগতি ৬৩ শতাংশ এবং মোট ব্যয়ের ৬২ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।
অনুমোদিত ডিপিপিতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ছিল ২০১০ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ সাল। কিন্তু বাস্তবায়নকারী সংস্থা পরিবর্তন করে পুনরায় একনেক থেকে অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে ১৪ মাস বিলম্ব হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে প্রকল্প ব্যয় ৬০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে এবং ২০১৪ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রায় প্রকল্পটি আবারও অনুমোদিত হয়। ২০১৬ সালের জুনে এর অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক না হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যক্রম অসমাপ্ত রেখে সমাপ্তকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক এস এম রেজাউল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের কাজ অনেক অগেই বন্ধ রয়েছে। ফলে যন্ত্রপাতি ও মালামাল কী করবে সেটা সরকার জানে। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিদ্যুেকন্দ্র এবং শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহে আরেকটি নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।