বৃহস্পতিবার ২৫ মে, ২০১৭, বিকাল ০৪:৩২

অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস: বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত

Published : 2017-05-19 23:27:00, Count : 46
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রশ্ন ফাঁসের কারণে অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদে বিকেলের অংশের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও পরীক্ষা বাতিল হবে কি না এ বিষয়ে কিছুই জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে হয়। কমিটি সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে তারা সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে। পরীক্ষা নেওয়ার জন্য তারা দরপত্র দেয়। অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার পদের নিয়োগ পরীক্ষার দরপত্র পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগ। জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রথম ভাগের পরীক্ষা শুরুর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফাঁস হওয়া প্রশ্নের’ ছবি প্রকাশ করেন। এ ছাড়া একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। সকালের অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ফাঁসকৃত প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
পরে বিকেলের অংশের প্রশ্নপত্রের বিভিন্ন ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সকালের অংশের পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর আয়োজক কর্তৃপক্ষ বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টায় নির্ধারিত দ্বিতীয় অংশের পরীক্ষা স্থগিত করে।  
পরীক্ষা আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আবু তালেব বলেন, অনিবার্য কারণবশত বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত করেছি আমরা।
পরীক্ষা স্থগিতের কারণ বিষয়ে তিনি বলেন, বিকেলের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগটি পাওয়ার পর আমরা পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিই।
তবে সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওটার ফাঁস হওয়ার অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। তারপরও বিষয়টা খতিয়ে দেখব।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই ফাঁস হওয়া প্রশ্ন ও তার উত্তর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন।
সাইদুল আলম নামে এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুনছিলাম প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। সকালে হলে ঢোকার আগে দেখি অনেকে প্রশ্ন দেখে উত্তর মুখস্থ করছে। পরে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন পাওয়ার পর দেখি হুবহু মিল ছিল। এজন্য এই পরীক্ষা বাতিল করা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাছির উদ্দীন জানান, সকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পর তিনি অনেকের হাতেই প্রশ্ন দেখেছেন। পরে হলে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে তা মিলেও গেছে।
প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চট্টগ্রাম থেকে আসা এক পরীক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার নামে এই প্রহসন আমাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। ঢাকার বাইরে থেকে এসে যখন দেখি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে তখন আমাদের কাছে এটা ছুরিকাঘাতের মতো মনে হয়। আমরা সকালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাও বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।  
উল্লেখ্য, এর আগে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল। গত ২১ এপ্রিল ওই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও খবর