বৃহস্পতিবার ২৫ মে, ২০১৭, বিকাল ০৪:৩৪

ঈশ্বরদীতে ভূমিমন্ত্রীর ছেলেসহ যুবলীগের ১১ নেতা গ্রেফতার

Published : 2017-05-19 23:26:00, Count : 48
ঈশ্বরদী সংবাদদাতা: ঈশ্বরদীতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর ছেলে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমালসহ যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। গত বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদীতে দলীয় প্রতিপক্ষ নেতাদের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গতকাল ভোররাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া বাকি ১০ জন হলেন-শহরের মধ্যঅরণকোলার মাসুম আহমেদ, ইস্তা গ্রামের সাইফুদ্দিন, শেরশাহ রোডের সবিরুল ইসলাম, মেহেদী হাসান, দুই ভাই মাহবুব হাসান ও প্রিন্স ইসলাম, জাফর ইকবাল, পূর্বটেংরীর রনি ইসলাম, নূরমহল্লার জাহাঙ্গীর হোসেন ও শহীদ আমিন পাড়ার মোহাম্মদ বিন সালামের ছেলে ফাহাদ। গ্রেফতারের পর এই ১১ জনকে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাবনা-৪ আসনের এমপি ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সঙ্গে তার জামাতা ঈশ্বরদীর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর অনেকদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গত বৃহসপতিবার দুপুরে ভূমিমন্ত্রী সমর্থিত উপজেলা যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ঈশ্বরদী বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় মন্ত্রীর জামাতা আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর মিষ্টির দোকানসহ কয়েকজন সাধারণ ব্যবসায়ীর দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। একই সময়ে হামলাকারীরা আবুল কালাম আজাদ সমর্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতেও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তাদের মারধরে আহত হন ছাত্রলীগ সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের মা হাজেরা বেগম। এরপর শহরের কলেজ রোডে মুক্তিযোদ্ধা আজমল হক বিশ্বাসের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা শরিফুল হাসান বিশ্বাস আরিফের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণে জানা গেছে, বৃহসপতিবার সকালে পাবনায় আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে গেলে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সমপাদক রাজিব সরকার সমর্থক আরিফ নামের একজনকে একই কাজে যাওয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের কর্মীরা মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজিব গ্রুপের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে দুপুরে শহরের শহীদ আমিনপাড়ায় অবস্থিত যুবায়ের বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালায়। এই হামলায় যুবায়েরের মা আহত হন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কে অবস্থিত ফুড জংসন ও লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদীতে শিরহান শরীফ তমালের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাজারে ফুড জংশন ও লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের দুটি দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর শহরের কলেজ রোডে মুক্তিযোদ্ধা আজমল হক বিশ্বাসের ছেলে যুবলীগের সাবেক নেতা শরিফুল হাসান বিশ্বাস আরিফ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের শহীদ আমিনপাড়ার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল ও সাধারণ সমপাদক রাজিব সরকারের জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি আবদুল হাই তালুকদার জানান, গত বৃহস্পতিবারের হামলার ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি যুবায়ের বিশ্বাসের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার বিশ্বাস ঈশ্বরদী থানায় রাতেই একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালকে প্রধান আসামি করা হয়। এরপর রাতেই অভিযানে নামে ঈশ্বরদী ও পাবনা পুলিশের যৌথ দল। তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ভূমিমন্ত্রীর ছেলে তমালসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে।
পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, একাধিক হামলার ঘটনার মধ্যে শুধু জুবায়ের বিশ্বাসের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পরপরই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পাবনা ও ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ। শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে শহরের আলিবর্দী রোডে ভূমিমন্ত্রীর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। বাড়ি থেকে মন্ত্রীর ছেলে তমালকে গ্রেফতার করা হয়। বাকি ১০ জনকে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই সময় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব সরকারের বাড়িতে পুলিশি অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও খবর