বৃহস্পতিবার ২৫ মে, ২০১৭, বিকাল ০৪:৩৭

ক্ষুব্ধ হাইকমান্ড: বিএনপির কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ছাড় নয়

Published : 2017-05-19 23:21:00, Count : 116
রেজাউল করিম লাবলু: চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকাসহ কয়েকটি জেলার কর্মিসভায় বিবদমান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ দলের হাইকমান্ড। এ অবস্থায় কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের খুঁজে বের করে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য সকালের খবরকে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র।
কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানতে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের খবরকে বলেন, বিএনপি এখন দুঃসময় পার করছে। দল আগামী দিনে পজিটিভ রাজনীতি নিয়ে এগোতে চায়। এজন্য দলের মধ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় দলের মধ্যে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যেসব জেলার কর্মিসভায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে সেসব জেলার নেতাদের ডেকে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারপারসন। বৈঠকে তিনি নেতাদের বক্তব্য শুনবেন এবং যাদের দোষ পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত ২ মে চট্টগ্রাম উত্তর ও ৩ মে দক্ষিণের কর্মিসভায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনায় সভা পণ্ড হয়ে যায়। এতে কয়েক নেতাকর্মী আহতও হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ মে তিনি তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগরের ১৫ নেতাকে নিয়ে বৈঠক করে উভয় পক্ষের নেতাদের বক্তব্য শোনেন। পরদিন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন।
বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, দলের এই দুঃসময়ে যারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরদিন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ গাজী শাহজাহান জুয়েল এবং উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী আবদুল্লাহ আল হাসানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমকে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, গত ১৪ মে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঢাকা জেলা বিএনপির কর্মিসভা দুই গ্রুপের চেয়ার ছোড়াছুড়ির কারণে পণ্ড হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ মে বিকেলে রাজশাহী জেলা ও ১৬ মে সকালে মহানগরের কর্মিসভায় হট্টগোল হয়।
এ বিষয়ে জানতে দল পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের খবরকে বলেন, যেসব জেলায় গণ্ডগোল হয়েছে সেসব জেলার নেতাদের ডেকে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চেয়ারপারসন। এর অংশ হিসেবে শনিবার (আজ) ঢাকা জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। এরপর রাজশাহী জেলা ও মহানগর নেতাদের নিয়ে বৈঠক করতে পারেন তিনি।  
জেলা পর্যায়ে কর্মিসভা করার জন্য সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে ৫১টি টিম গঠন করেছিলেন বিএনপির হাইকমান্ড। এর অংশ হিসেবে গত ২২ এপ্রিল থেকে জেলা পর্যায়ে কর্মিসভা শুরু করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। এই কর্মিসভা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৭ মে। কিন্তু পরে এ সময় বাড়ানো হয়। ঈদের পরও কর্মিসভা হবে।  
কর্মিসভার সময় বাড়ানোর বিষয়ে মো. শাহজাহান সকালের খবরকে বলেন, কোনো জেলায় বন্যা এবং কোনো জেলায় সময় দিতে না পারাসহ বিভিন্ন কারণে কর্মিসভা করার সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী রোজার ঈদের পরও এ কর্মিসভা হবে।
তিনি জানান, তাকে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় কর্মিসভার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সময়ের অভাবে কর্মিসভা করতে পারছেন না। তাই ঈদের পর এই দুই জেলায় কর্মিসভা করার সিদ্বান্ত নিয়েছেন তিনি।
দফতর সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, পরপর কয়েকটি জেলার কর্মিসভায় গণ্ডগোল হওয়ার কারণে চাঁদপুর জেলার কর্মিসভা স্থগিত করা হয়েছে।
কর্মিসভা স্থগিত হওয়ার বিষয়ে চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ মানিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের খবরকে বলেন, শনিবার (আজ) তার জেলায় কর্মিসভা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে। তার জেলার দায়িত্বে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন।  

 

আরও খবর