বৃহস্পতিবার ২৫ মে, ২০১৭, বিকাল ০৪:৩৩

ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার: সাফাতের অপকর্মের মূল হোতা নাঈম

Published : 2017-05-19 23:23:00, Count : 250
এসএম মিন্টু: বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের সব অপকর্মের মূল হোতা ছিল নাঈম আশরাফ ওরফে হালিম। এমনকি সাফাতের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগে থেকেই তার বাবা আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিল নাঈম। তদন্ত সংশিষ্টরা বলছেন, গত ছয় মাস ধরে সাফাতের নানা অপকর্মের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছে নাঈম। তারা বলছেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে নাঈম।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের পুত্র সাফাত আহমেদের মোবাইল ফোন থেকে এই ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় সাফাতের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আইসিটি অ্যাক্টে একটি মামলা দায়ের করবে দুই অভিযোগকারীর একজন। ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও ফুটেজ ও ছবি উদ্ধারের বিষয়টি আইসিটি অ্যাক্টে মামলা দায়েরের পর পুলিশ গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত খবর জানাবে। সাফাতের মোবাইল ফোন থেকে ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গাড়িচালক বিল্লাল দ্য রেইনট্রি হোটেলের ৭০১ নম্বর কক্ষের বাথরুম থেকে মোবাইল ফোন দিয়ে ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও করে। বাথরুম থেকে দেয়ালের কাচ দিয়ে রুমের ভেতরের সব কিছু দেখা যায়। ভিডিও করার পর সাফাত তার মোবাইল ফোনে ওই ফুটেজ নিয়ে নেয়। ধর্ষণের ঘটনার কয়েক দিন পর সাফাত তার দেহরক্ষী রহমত আলীকে ওই দুই ছাত্রীর বাসায় পাঠিয়েছিল। দুই ছাত্রীর পারিবারিক বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য সাফাতের নির্দেশে এ কাজ করেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে রহমত আলী জানায়। গাড়িচালক বিল্লাল এই মামলার চার দিনের রিমান্ডে আছে। গতকাল তার রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষ হয়েছে। এই মামলায় সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর তিন দিনের রিমান্ড গতকাল শেষ হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিওর বিষয়টি জানার পর তা মুছে ফেলার জন্য সৌরভ ও পাপ্পু নামে তাদের দুই বন্ধুকে সাফাত, সাকিফ ও নাঈমের কাছে পাঠিয়েছিল। সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে একজন ধর্ষিতার ছবি আপলোড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপ-কমিশনার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে অনেক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছি। আর কত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করব। তিনি বলেন, বুঝতে পারছি না ছবিগুলো অন্যের কাছে যায় কীভাবে? আমরা আমাদের মতো কাজ করছি বলে তিনি জানান।
তদন্ত সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকায় ভারতের সংগীতশিল্পী অরিজিত্ সিংয়ের কনসার্টকে কেন্দ্র করে সাফাতের সঙ্গে পরিচয় হয় নাঈম আশরাফের। নাঈম আশরাফের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ‘ইমেকার্স’ ওই কনসার্টের আয়োজন করেছিল। ওই কনসার্টের স্পন্সর ছিল আপন জুয়েলার্স। তবে এর আগ থেকেই সাফাতের বাবা দিলদার আহমেদ সেলিমের সঙ্গে বিশেষ সখ্য তৈরি হয় নাঈমের। দিলদার আহমেদ সেলিমকে মিডিয়ায় কাজ করেন এমন অনেক সুন্দরী মডেলের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছিল নাঈম।
তদন্ত সংশিষ্ট সূত্র জানায়, সাফাত, সাকিফ ও নাঈম ধর্ষণের ভিডিওচিত্রটি দেখিয়ে দুই ছাত্রীকে একাধিকবার ভোগ করতে চেয়েছিল। তাই ভিডিওচিত্র ধারণের জন্য সাফাতকে পরামর্শ দিয়েছিল নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ। রেইনট্রি হোটেলের কর্মকাণ্ডের পর থেকেই সাফাতসহ তার বন্ধুরা বিভিন্ন সময় দুই ছাত্রীকে ফোন করে তাদের কাছে যেতে বলত। এক পর্যায়ে ধর্ষকদের নম্বর ভুক্তভোগীরা ব্লক করে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা টেক্সট ম্যাসেজ পাঠাত।
নাঈম, বিল্লাল ও রহমতকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা বলেন, বিল্লাল আগেই দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে। নাঈমের সামনে ফের একই ধরনের বক্তব্য দেয়। এ সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয় বিল্লাল যা বলছে তা ঠিক কি না। তখন নাঈম ঠিক বলে সম্মতি দেয়। সেই সঙ্গে নাঈম এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের কথাও স্বীকার করেছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের সময় নাঈমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে সাফাতের সঙ্গে তার কীভাবে পরিচয়; দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য কাউকে ধর্ষণ করেছে কি না; গুলশান এলাকার ইয়াবা, সিসা বারগুলোতে কীভাবে অনৈতিক কাজ করত তারা; সাফাত, সাদমান ছাড়াও তার সঙ্গে আর কার কার পরিচয় আছে।
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উপ-কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন জানান, আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে থাকা আসামি নাঈম, বিল্লাল ও রহমত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। নাঈম আশরাফ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে।

আরও খবর