বৃহস্পতিবার ২৫ মে, ২০১৭, বিকাল ০৪:৩৪

কক্সবাজারে তিন লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি: প্রতিনিধি সম্মেলনের পর নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত

Published : 2017-05-19 22:57:00, Count : 54
মনতোষ বেদজ্ঞ, কক্সবাজার: জেলায় তিনটি লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে বিএনপি। সেগুলো হল-আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা, দলের আন্দোলন-সংগ্রামে গতি আনা ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্যকে আরও সুসংহত করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দলটির কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকরা। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি জেলা বিএনপির ‘তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন’ আয়োজন করা হয়-যা দলের নেতাকর্মীদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঝিমিয়ে থাকা দলকে পুনর্গঠনে ৫১ নেতার নেতৃত্বে সাংগঠনিক দল গঠন করেছে বিএনপি। এসব টিম সারাদেশে কর্মিসভা ও দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে নির্দেশনা দিচ্ছে। প্রতিটি জেলায় কর্মিসভা করছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা জাতীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করছেন। গত শুক্রবার জেলা শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনটি ছিল জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি কৌশল। এর মাধ্যমে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়। তারা দলের ভবিষ্যত্ কর্মকৌশল এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দলের অবস্থান সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা লাভ করে। এই সম্মেলন তাদের মনোবল বৃদ্ধির ‘টনিক’ হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শওকত আলম বলেন, সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া তৃণমূল প্রতিনিধি সভার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে। সবাই নতুন করে চাঙ্গা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ঈদগাঁওতে সাংগঠনিক মাস ঘোষণা করেছি। মূলত আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সজাগ রাখতে এবং সুসংগঠিত করতেই এই সাংগঠনিক মাস ঘোষণা করা হয়েছে। সাংগঠনিক মাসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও ইউনিট পর্যায়ে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সমন্বয় সভা, এই সমন্বয় সভার মাধ্যমে সমস্যা শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যেসব কমিটি নিষ্ক্রিয় সেগুলো পুনর্গঠন করা। সেভাবেই আমরা এগোচ্ছি।
চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আলী আজম বাহাদুর বলেন, নেতাকর্মীরা এখন খুবই খুশি। তারা উত্সাহিত। গ্রামগঞ্জে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সম্মেলনের পর। নেতাকর্মীদের মনে একটা আশ্বাস এসেছে। নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে সবার মনে।
পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহদুর শাহ বলেন, নেতাকর্মীরা খুবই উজ্জীবিত। এলাকায় ফিরে তারা ব্যাপক সাংগঠনিক তত্পরতা শুরু করেছে। আমরা মনে করছি, এটি বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন। এক কথায় বলা যায়, আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার আলম চৌধুরী বলেন, তৃণমূলে প্রাণচাঞ্চল্য এসেছে। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরাও কিছু পরামর্শ দিয়েছি। বতর্মান অবস্থায় দলের ভালোর জন্য এ ধরনের সম্মেলন খুবই দরকার ছিল। এখন দলকে আমরা গুছিয়ে নিচ্ছি। উপজেলা পর্যায়েও আবার প্রতিনিধি সভা করা হচ্ছে। মূলত নির্বাচন সামনে রেখে আমরা সব দিক থেকে এগোনোর জন্য চেষ্টা করছি।
জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী জানান, বিএনপিকে চাঙ্গা করতে সারাদেশে ৫১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের প্রধান হচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। তার নেতৃত্বে সাংগঠনিক টিম সদ্য সমাপ্ত জেলার তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। তারা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন। সম্মেলনে ভারতের শিলংয়ে অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটানো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দীন আহমদের ভিডিও বক্তব্য মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রচার করা হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা তার বক্তব্য শুনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই সম্মেলনের পর দলের নেতাকর্মীদের মনোবল বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, অতীত ইতিহাস বলে কক্সবাজার জেলা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। বর্তমান সরকারের স্বৈরশাসনের মুখে সেই ভিত্তি আরও মজবুত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে ভোটাররাই এর জবাব দেবে।