সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, রাত ০৩:০৩

সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেবে ৪৮ হাজার কোটি টাকা

Published : 2017-05-19 00:41:00, Count : 319
শাহ্জাহান সাজু: নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তুষ্টির বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যদিও রাজস্ব আদায়ে নেওয়া হচ্ছে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা। তবে নতুন করে করের বোঝা জনগণের ওপর চাপাতে চায় না সরকার। এজন্য আগামী ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ কার্যকরী বাজেট আগামী ১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। যদিও ক্ষমতাসীন সরকার আরও একটি বাজেট দেবে। তবে সেটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট নয়। ফলে আসন্ন বাজেটই হচ্ছে বর্তমান সরকারের শেষ কার্যকরী বাজেট। ফলে এ বাজেট আগামী নির্বাচনে ভোটারদের খুশির দিকটি মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে। আর নির্বাচনকেন্দ্রিক বাজেট তৈরি করতে গিয়েই বেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে এ আকার ২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৩৮ হাজার ৫২৩ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ ২৪ হাজার ১৮২ কোটি টাকা আর স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা। তার আগে ২০১৪-১৫ অর্থবছরেও ৩১ হাজার ২২১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আগামী ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সকালের খবরকে বলেন, আসছে বাজেটে ঘাটতি বেশি রাখা হচ্ছে। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। এর ফলে আগামী অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ধরা হতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় বাড়বে ৬ হাজার

৮২০ কোটি টাকা। এজন্য এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভর্তুকি খাতেও ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এই বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ২ শতাংশ।

আগামী বাজেটে ঘাটতি পূরণ করতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হবে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে ২৫ হাজার ৮২৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণ নেওয়ার সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ও অনুদান ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এবং ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।