মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:২৯

গঙ্গা ব্যারাজে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করতে আসছেন চীনের পানিমন্ত্রী

Published : 2017-03-17 00:50:00
রবিউল ইসলাম: পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা করতে ১১ এপ্রিল ঢাকা আসছেন চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী চেন লেই। চীনের ‘পাওয়ার চায়না’ কোম্পানিই পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের সমীক্ষা পুনঃপর্যালোচনা কাজ কয়েক মাস আগে শেষ করে জমা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যাবেন। ওই সফরকালে প্রস্তাবিত পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ১০ এপ্রিল ভারত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরদিনই ঢাকা আসবেন চেন লেই। ইতোমধ্যে চীনের দুটি কোম্পানি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে তাদের আর্থিক প্রস্তাবনার বিস্তারিত জানিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ওই সূত্র জানায়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ও পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প চীনের অর্থায়নে নির্মাণে বেশি আগ্রহী। তবে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়ার পর চীনের সঙ্গে গঙ্গা ব্যারাজ নিয়ে আলোচনা করার বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করেছেন সাবেক কূটনীতিকরা। সকালের খবরের সঙ্গে আলোচনায় কয়েকজন কূটনীতিক বলেন, গঙ্গা ব্যারাজে চীনের সংশ্লিষ্টতাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত। ভারতের সবুজ সঙ্কেত ছাড়া গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। এখন আবার চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করা কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে এসব বিতর্কে পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ পিছিয়ে না যায়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গঙ্গা একটি অভিন্ন নদী। আর এই নদীতে ব্যারাজ করতে হলে ভারতের সহযোগিতা নিয়েই করতে হবে। কারণ এই নদীর পানির যৌথ ব্যবস্থাপনায় হতে হবে। তাই দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে বিবেচনায় গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে ভারতের সঙ্গে চূড়ান্ত করতে হবে। পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণে গত বছর ভারতের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ। ভারতকে সঙ্গে নিয়েই গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত রয়েছে। গঙ্গা ব্যারাজ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ডিসেম্বরে দু’দেশের একটি যৌথ কারিগরি দল গঠন করা হয়েছে। এই ব্যারাজ করার কারণে ভারতের কোনো ক্ষতি হবে কি না, সে বিষয়ে সমীক্ষা করছে ভারত। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরেও গঙ্গা ব্যারাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদীর বাংলাদেশ অংশে ভয়াবহ পানি সঙ্কটে দক্ষিণের প্রায় ২২টি জেলার ১২৩টি নদী ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা-গঙ্গা ব্যারাজের প্রথম সমীক্ষা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে করা হয়। তখনও পাকিস্তানি পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছিল। সে সময় ভারতীয় পরামর্শক কোম্পানি ‘ওয়াপকস’ গঙ্গা ব্যারাজের সমীক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু ভারতীয় কোম্পানি কাজ পায়নি। সে সময় ভারতীয় কোম্পানিকে কাজ দিলে ব্যারাজ নির্মাণে নয়াদিল্লি পশ্চিমবঙ্গে বন্যার যে আশঙ্কা করছে তা থাকত না।

বাংলাদেশের অর্থায়নে সমীক্ষার কাজ করে ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্ট কোম্পানি লিমিটেড। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৬ সালে সমীক্ষার দরপত্র আহ্বান করা হয়। সমীক্ষা কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০০৯ সালে এবং সমীক্ষা শেষ হয় ২০১৪ সালের জুন মাসে। এরপর সমীক্ষা পুনঃপর্যালোচনার জন্য ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট চীনা কোম্পানি ‘পাওয়ার চায়না’র সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। এই সমীক্ষার পর্যালোচনা প্রতিবেদন আগামী জুনে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও কোম্পানিটি ইতোমধ্যেই কাজ শেষ করে গত ডিসেম্বরেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর ঢাকা সফরে গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে কী আলোচনা হবে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হতে পারে। তবে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে খবু কমই আলোচনা করা হবে।

চীনের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য তৈরি করা চূড়ান্ত সূচি সকালের খবরের কাছে রয়েছে। সেখানে গঙ্গা ব্যারাজ ছাড়াও ঢাকা সার্কুলার রোড ও ইস্টার্ন বাইপাস, বুড়িগঙ্গা পুনরুদ্ধার প্রকল্প, টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং চীনে ব্রহ্মপুত্র নদে সে দেশের তৈরি করা জলবিদ্যুত্ প্রকল্পের বিষয়ে তথ্যবিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা হবে। চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী চেন লেইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল আগামী ১১ এপ্রিল ঢাকায় আসবে। পরদিন বাংলাদেশের পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। এছাড়া চীনের পানিমন্ত্রীর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও পদ্মা ব্রিজ প্রকল্প এলাকা বা সিরাজগঞ্জ হার্ড পয়েন্ট পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে।