মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ১০:১৬

এমন ব্যাটিংয়ে নিজেই সব ভুলছেন কোচ!

Published : 2017-03-17 00:36:00
এম. এম. কায়সার: শিক্ষক একজনকে ‘নয়ন’ বানান করতে বললেন।উত্তরটা এলো-য়, দু’বার দন্ত্য ন!
বেচারা শিক্ষক হাল ছেড়ে দিয়ে বললেন-‘নাহ, আমি আর পড়াতে পারব না। তোকে পড়ালে আমি যা জানি, সেটাও ভুলে যাব!’
পুরনো কৌতুকটা মনে পড়ল বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবিরার অবস্থা দেখে। তার কথা শুনে। শততম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে হঠাত্ করে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধস, বিশেষ করে সাকিবের মারকাটারি স্টাইল দেখে নিজের শেখা ব্যাটিংয়ের সবকিছুই যে ভুলে যেতে বসেছেন সামারাবিরা!
এত ভালো শুরুর পর, দিন শেষে সেই ব্যাটিং নিয়েই আরেকবার দুঃখ, হতাশা, আক্ষেপ এবং হাহাকার! ওপেনিং জুটিতে ৯৫ রান তোলা বাংলাদেশ তৃপ্তির হাসি নিয়েই দিনটা শেষ করার প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। কিন্তু দিনের শেষভাগে এসে হঠাত্ এলোমেলো ব্যাটিংয়ে সেই সুখ হারিয়ে গেল।
এমন ঘটনা যে এবারই প্রথম ঘটল, তা কিন্তু নয়। সাম্প্রতিক সময়ে টেস্টে বাংলাদেশের ইনিংসে এটা নৈমিত্তিক একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-কেন এটা বারবার ঘটছে?
-এ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী?
যাকে করা এই প্রশ্ন সেই বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ থিলান সামারাবিরাও অসহায় হয়ে গেলেন-‘কেন এটা ঘটছে, সেটা আমি বুঝতেই পারছি না। প্রতিবারই একই ঘটনা ঘটছে। ব্যাটিং ধসের শুরু হলে আমরা আর সেটা নিয়ন্ত্রণ করতেই পারি না। আজকের দিনেরটা যদি বলি তবে আমার মনে হয় একটা বাজে শট আমাদের বাকি বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ইমরুল কায়েসের আউটও অমনই। আমি ব্যাটসম্যানদের স্কিল বাড়ানোর শিক্ষাটা দিতে পারি। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের সময় খোদ ব্যাটসম্যানকে মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষ তার জন্য কী সাজিয়ে রেখেছে। কোন পরিস্থিতিতে কোন শটস কীভাবে খেলতে হবে-সেই বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ কিন্তু ব্যাটসম্যানকেই করতে হবে।’
দিনের শেষে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দলের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হতে পারত। সেই প্রসঙ্গে ব্যাটিং কোচ বললেন-‘ভাগ্য ভালো যে আমরা মাত্র ৫ উইকেট হারিয়েছি, এটা ৬ উইকেটও হতে পারত। দেখা যাক, এখন সামনে নতুন দিন। নতুনভাবে আবার শুরু করতে হবে সবকিছু। তৃতীয় দিনের সকালের প্রথম আধঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি ভালো শুরুর জন্য আমাদের আরেকটি ভালো জুটির প্রয়োজন।’
চটজলদি বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দল বিপদে। দিনের খেলার বাকি আর মাত্র কয়েক ওভার। এমন সময়ে সাকিব আল হাসানের হঠাত্ টি-টুয়েন্টি ধাঁচের ক্রিকেট কতটা মানানসই? এ প্রশ্নের ব্যাখ্যায় ব্যাটিং কোচ আরেকবার নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন-‘তার এ ব্যাটিংয়ের ধরন সম্পর্কে আমি শব্দই খুঁজে পাচ্ছি না। সত্যিকার অর্থে বলতে কি, কোনো কিছু ধারণাই করতে পারছি না!’
আট বলে ৩ বাউন্ডারিতে সাকিবের ১৮ রানের ইনিংস দেখে মুগ্ধতায় নয়, ভয়ে-আতঙ্কেই এমন কথা বলছেন বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ।
নিজে যা শিখে এসেছেন, এখন এসব দেখে সেটাই তিনি ভুলে যেতে বসেছেন!
সাধারণ নিয়মটা হল-বড় স্কোর করতে হলে, শুরুটা ভালো করতে হয়। বাংলাদেশ সেটা নিয়মিতই করে দেখাচ্ছে। শুরুটা ভালো করছে। কিন্তু সেই ভালোটা যে ধরে রাখতেই পারছে না।
-কেন এমন হচ্ছে? ফাঁকটা কোথায়?
ব্যাটিং কোচ সমাধান দিলেন-‘শীর্ষ পাঁচের মধ্যে ব্যাটিং করলে ব্যাটসম্যানদের অবশ্যই সেঞ্চুরি করতে হবে। যদি কেউ শুধু ৫০ রান করে সন্তুষ্ট হয়ে পড়ে, তবে সেটা মোটেও যথেষ্ট নয়। সুযোগ পেলে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। উদাহরণের জন্য বেশি দূরে যেতে হবে না। গল টেস্টে প্রথম বলেই আউট ছিল কুশল মেন্ডিস। কিন্তু ওটা ছিল নো বল। তারপর আমরা কী দেখলাম। সেই ব্যাটসম্যান বিশাল সেঞ্চুরি করে ছাড়ল। টেস্ট ক্রিকেট এটাই। ব্যাটসম্যানদের বড় রান করতেই হবে।’
১২৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও এ টেস্টে এখনই আশা হারানোর কোনো কারণ দেখছেন না থিলান সামারাবিরা। বললেন-‘উইকেট এখনও ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো ব্যাটিং করতে পারে, তবে আমরা প্রথম ইনিংসে ৫০ রানের লিড পেতেই পারি।’
ব্যাটিংয়ে নামার সময় কি ব্যাটসম্যানদের জন্য কোনো নির্দেশনামা থাকে? বাংলাদেশ ব্যাটিং কোচ বললেন-‘নাহ, অমন কিছু থাকে না। কারণ এ ক্রিকেটাররা অনেক ক্রিকেট খেলেছে। পরিস্থিতিটা তাদের ভালোভাবে বোঝা উচিত। ব্যস, এটুকুই!
সমস্যা হল, উচিত-অনুচিতের মধ্যে পার্থক্যই যে ধরতে পারছেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা!