সোমবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, রাত ০৩:০১

শ্রোতাদের জন্য ভালো কিছু গান করতে পেরেছি

Published : 2017-05-18 22:50:00, Updated : 2017-05-18 22:53:31, Count : 1592
সংগীত তারকা হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। গতকাল বিএমজে ওয়ার্কস্টেশন থেকে প্রকাশ হয়েছে তার দশম একক অ্যালবাম এমন হলো কই। অ্যালবাম ও অন্যান্য বিষয় কথা হয় তার সঙ্গে-
দীর্ঘদিন পর আপনার নতুন অ্যালবাম প্রকাশ হল-
আইয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের সুর ও সংগীতে আমার নবম অ্যালবাম বের হয়েছিল ২০১০ সালে। অনেক দিন পরই আমার দশম একক অ্যালবাম এমন হলো কই প্রকাশ হল। এতে পাঁচটি গান রয়েছে। চারটি গান লিখেছেন শাহান কবন্ধ। চারটি গানের সুর ও সংগীত করেছেন বাপ্পা মজুমদার। এ ছাড়া একটি রবীন্দ্রসংগীত রয়েছে। এই গানটিরও সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার। শুধু তাই নয়, এটি প্রকাশ হয়েছে বাপ্পা মজুমদারের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। আর এটি সিডিতে প্রকাশ করা হয়নি। ডিজিটালভাবেই বিভিন্ন অ্যাপে এটি পাওয়া যাবে। 
অ্যালবামের একটি গানের ভিডিও করা হয়েছে-
‘খুব সকালে দেখা হলো’ গানটির ভিডিও করা হয়েছে। এটিও আজ রাতে (গতকাল) ইউটিউবে প্রকাশ হবে। আশা করি ভিডিওটি দর্শক-শ্রোতাদের ভালো লাগবে। ভিডিওতে আমাকে ও বাপ্পাকে দেখতে পাবেন দর্শক। সব মিলিয়ে গানটি নিয়ে আমি আশাবাদী। 
অ্যালবামটি করতে আপনি বেশ সময় নিয়েছেন-
বাপ্পাও অনেক ব্যস্ত থাকে, আমিও কিছুটা ব্যস্ত ছিলাম। সব মিলিয়ে গানগুলো করতে একটু সময় লেগেছে। তবে দেরি হলেও শ্রোতাদের জন্য কিছু ভালো গান করতে পেরেছি এ জন্য ভালো লাগছে।
আপনি সাধারণত যে ধরনের গান করেন, এই অ্যালবামে সেই ধারাবাহিকতা নেই, কারণ কী?
এই সময়ে এসে বুঝতে পেরেছি আমাদের গানে, আমাদের সংস্কৃতিতে, আমাদের ভাষায় পরিবর্তন হচ্ছে। তাই সময়কে ধরার জন্যই অন্যরকম কথায় গান করেছি। তারপরও গানের কথাগুলো সুন্দর। শ্রোতারা গান শুনলেই বুঝতে পারবেন। আমাদের চেষ্টার ঘাটতি নেই।
ইদানীং দেশের বাইরেই বেশি থাকছেন। বাংলাদেশের দর্শকরা আপনাকে আগের মতো নিয়মিত পাচ্ছেন না।
আমি একটি বিশেষ প্রয়োজনে দেশের বাইরে ছিলাম। দুই বছরের একটি কাজ ছিল। সেই কাজটি শেষ করেছি। আবারও দেশে নিয়মিত থাকব এবং দর্শক-শ্রোতাদের গান শোনাব। 
উপস্থাপনায় আপনি একেবারেই অনুপস্থিত-
দেশে না থাকার কারণেই উপস্থাপনা করা হয়নি। আমারও উপস্থাপনা করার ইচ্ছা করে। কিন্তু একটু বিশেষ কাজের কারণেই এমনটা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে উপস্থাপনা শুরু করব। 
বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন-
যারা বলে এখন কিছু হচ্ছে না এটা আমি মানি না। সব সময়ই ভালো কাজ হয়েছে। সব সময়ই খারাপ কাজ হয়েছে। এখনও হচ্ছে। শ্রোতারা তাদের রুচি অনুসারে বেছে নেয়। আগে বাংলাদেশের মানুষ ছিল সাত কোটি। তখন শিল্পী ছিল পাঁচশ’। এখন মানুষ ষোল কোটি। শিল্পী হল পাঁচ হাজার। এখন আয়োজন বেশি, অ্যালবাম বেশি, গানও বেশি। ভালো গানের সংখ্যাও বেশি হচ্ছে। এখন চ্যানেলও বেশি। এটা আসলে মানুষ অস্থির হয়ে বলে। আমি কখনই অস্থিরতার পক্ষে নই। 
মিউজিক ভিডিওর ভিউ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। এটা আপনার দৃষ্টিতে কেমন-
আমি খুব পজিটিভভাবে দেখি। আমি কখনও এসব বিষয় নেতিবাচকভাবে দেখি না। কারণ, আমি ভিডিও বানিয়েছি। যার ভালো লাগবে সে অবশ্যই দেখবে। যার ভালো লাগবে না সে দেখবে না। এটাই স্বাভাবিক। সবার ভালোলাগা কখনও এক হবে না। 
গানের বাইরে আপনি ছবিও তোলেন। আলোকচিত্র প্রদর্শনী কবে করবেন?
এই মুহূর্তে এসব নিয়ে ভাবছি না। দেশে যখন স্থায়ীভাবে আসব, তখন চিন্তা করব নতুন চিত্রপ্রদর্শনী নিয়ে। আপাতত এই অ্যালবাম ও গান নিয়েই ভাবছি।
সাক্ষাত্কার : এ মিজান