শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:৪৩

সোনা আমদানি: সহজ ও স্বাভাবিক রাখতে হবে

Published : 2017-05-17 22:33:00
কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিলম্বেই আমাদের টনক নড়ে। এই অপ্রিয় সত্যটি আবারও প্রমাণিত হল দেশের এক বড় সোনা ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮০ কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার জব্দের মধ্য দিয়ে। প্রশ্ন উঠছে, দেশে সোনা আমদানির উল্লেখযোগ্য তথ্য না থাকলেও এত সোনা কোত্থেকে আসে! কেঁচো খুঁড়তে এখন সাপ বেরিয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর কিছুটা বিলম্বে হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। ধর্ষণ অভিযোগের প্রধান অভিযুক্তের বাবা একজন সোনা ব্যবসায়ী। শুল্ক গোয়েন্দারা উল্লিখিত সোনা ব্যবসায়ীর বিক্রয়কেন্দ্রে দু’দফা অভিযান চালিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, তাদের পরিচালিত অভিযানে যেসব স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে সেগুলোর পক্ষে সংশ্লিষ্টরা বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
দেশে শহর-গ্রামাঞ্চল মিলিয়ে ১০ হাজারের মতো সোনার দোকান রয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণপত্র খুলে বৈধ পথে ব্যবসার জন্য সোনা আমদানি করা যায়। কিন্তু অনেক দিন ধরেই ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ পথে সোনা আমদানি করা হয় না। তাহলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে, সারাদেশে এত সোনার দোকানের সোনা কোত্থেকে আসে? সোনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের ভেতরে মানুষ যেসব পুরনো সোনা বিক্রি করে সেগুলো বেচা-বিক্রির মাধ্যমে সোনার ব্যবসা চলছে। এ ছাড়া কোনো বাংলাদেশি বিদেশ থেকে ফেরার সময় ১০০ গ্রাম সোনা কোনো শুল্ক ছাড়াই আনতে পারে। সোনা ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রতিদিন বাংলাদেশে ব্যাগেজ রুলের আওতায় চার থেকে পাঁচ হাজার ভরি সোনা আসে। তাদের বক্তব্য, বৈধ পথে দেশে যে সোনা আসে সে পরিমাণ চাহিদাও নেই। কাজেই অবৈধ পথে সোনা আনার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। দেশের অর্থনীতিবিদরা অবশ্য এ মন্তব্য গ্রহণ করছেন না। তারা বলছেন, ব্যাগেজ রুলের মাধ্যমে যে পরিমাণ সোনা আসে তা খুব বেশি কিছু নয়। আর যারা সামান্য সোনা আনে, তা অধিকাংশ ব্যবহারের জন্য রেখে দেয়। পুরনো সোনা কেনা-বেচার মধ্য দিয়ে সোনার ব্যবসা টিকে আছে, এ মত অর্থনীতিবিদরা গ্রহণ করছেন না।
সোনার উত্স নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব পাওয়া কঠিন। তবে এ কথা ঠিক, সারাদেশে সোনার ব্যবসা সচ্ছলভাবেই টিকে আছে। যেকোনো ব্যবসা বৈধ পথে চলবে, এটা সবার প্রত্যাশা। সোনার ব্যবসায় অবৈধ পথের সন্দেহ উঁকি দিচ্ছে কেন? দেশে সোনা আমদানির আইন এবং এর ওপর আরোপিত শুল্ক বেশ কঠোর বলে মনে করেন সোনা ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের এ মতের সঙ্গে পুরোপুরি দ্বিমত নেই সরকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও। তারা মত দিচ্ছেন যে, সোনা আমদানির বিষয়টি সহজ করার ব্যাপারে তারা কাজ করছেন। আমরাও তাই মনে করছি। বৈধভাবে সোনা আমদানির ব্যাপারটি সহজ করা জরুরি। এতে অবৈধ পথে আসা সোনা বন্ধ হবে, সরকারও রাজস্ব পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশে একটি বৈধ ব্যবসা চালু থাকবে।