রবিবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:০৭

মুকুন্দ দাসের প্রয়াণ

Published : 2017-05-17 22:32:00
মুকুন্দ দাসের জন্ম ১৮৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা জেলায়। তিনি একজন বাঙালি কবি, যাঁকে চারণ কবি বলেও অভিহিত করা হয়। মুকুন্দ দাস স্বদেশি ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় বহু বিপ্লবাত্মক গান ও নাটক রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ছিলেন স্বদেশি যাত্রার প্রবর্তক।
বরিশালের ব্রজমোহন স্কুলে মুকুন্দ দাসের শিক্ষাজীবন শুরু হয়। তাঁর বাবার দেওয়া নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর দে এবং ডাক নাম ছিল যজ্ঞা। বরিশালে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী রামানন্দ অবধূত যজ্ঞেশ্বরের গলায় হরিসংকীর্তন ও শ্যামাসংগীত শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে দীক্ষা দিয়ে তাঁর নাম রাখেন মুকুন্দ দাস। উনিশ বছর বয়সে তিনি সাধন-সংগীত নামে একশ’টি গানসমৃদ্ধ একটি বই রচনা করেন। বরিশালের অশ্বিনীকুমার দত্তের সংস্পর্শে মুকুন্দ দাস রাজনীতিতে আকৃষ্ট হন। তাঁর আগ্রহে মুকুন্দ দাস মাতৃপূজা নামে একটি নাটক রচনা করেন। দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে নবগ্রামে এই নাটকের প্রথম প্রকাশ্য যাত্রাভিনয় হয়। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় মুকুন্দ দাস একের পর এক গান, কবিতা ও নাটক রচনা করে বাঙালির জাতীয় জীবনে নতুন উদ্দীপনার সঞ্চার করেন। এরপর ব্রিটিশ সরকার রাজদ্রোহের অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করে ও বিচারে তাঁকে দিল্লি জেলে আড়াই বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তাঁর মাতৃপূজা নাটকটি সরকার বাজেয়াফত করে।
মুকুন্দ দাস কারাবাসে থাকাকালে তাঁর স্ত্রী সুভাষিণী দেবী মারা যান। মুক্তিলাভের পর চিত্তরঞ্জন দাশ ও সুভাষচন্দ্র বসু তাঁকে সান্ত্বনা দেন ও উদ্বুদ্ধ করেন। যার ফলে তিনি আবার রচনায় মনোনিবেশ করেন।
মুকুন্দ দাসের রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-মাতৃপূজা, সমাজ, আদর্শ, পল্লীসেবা, সাথী, কর্মক্ষেত্র, ব্রহ্মচারিণী, পথ ইত্যাদি। ১৯৩৪ সালের ১৮ মে মুকুন্দ দাসের মৃত্যু হয়।