মঙ্গলবার ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:২৭

চার নায়িকার সঙ্গে সাফাতের সম্পর্ক ছিল: অস্ত্রধারী দেহরক্ষী নিয়ে বেপরোয়া চলাচল করত

Published : 2017-05-14 23:32:00, Count : 5759
নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণের প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদ সবসময় সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরা করত। রাজধানীর বনানীর রেইন ট্রি আবাসিক হোটেলে দুই তরুণী ধর্ষণের সময়ও সাফাত অস্ত্রধারী দুই দেহরক্ষীর বেষ্টনীতে ছিল। সাফাতের কথায় রাজি না হওয়ায় ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীকে শটগান উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল তারা। এদিকে সাফাত আহমেদের সঙ্গে চার চিত্রনায়িকার নিয়মিত অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে সে অনৈতিকভাবে মেলামেশা করত। এছাড়া প্রায় এক ডজন বান্ধবীর নাম ফাঁস করেছে, যাদের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্কের কথাও খোলামেলা স্বীকার করেছে। এসব বান্ধবীর মধ্যে উঠতি কয়েকজন মডেলও রয়েছে। গতকাল রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে তদন্ত কর্মকর্তাদের এমন তথ্য দিয়েছে সাফাত।
অন্যদিকে সাফাতের বেশিরভাগ অনৈতিক কাজের সঙ্গী ছিল নাঈম আশরাফ। গ্রেফতার এড়াতে নাইম আশরাফ ইতোমধ্যে দেশ ছেড়েছে বলে তথ্য পাচ্ছেন পুলিশের তদন্তকারীরা।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগে নাঈম আশরাফ তার ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে। ছবিতে দেখা যায়, সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ সানগ্লাস চোখে পোজ দিচ্ছে। দুই পাশে দুটি শটগান হাতে দুই দেহরক্ষী রয়েছে অ্যাকশন মুডে। এই ছবি ইতোমধ্যে জব্দ করেছে পুলিশের তদন্তকারী সংস্থা। সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফের নামে অস্ত্রের কোনো লাইসেন্স রয়েছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাফাতকে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আপন জুয়েলার্সের নামে কতটি অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছেন পুলিশের তদন্তকারীরা।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাফাত আহমেদ রাজধানীর এক স্থান থেকে আরেক স্থানে চলাচল করার সময় তার আগে-পিছে থাকত দেহরক্ষীদের গাড়ি। রাস্তায় কোথাও যানজটে আটকা পড়লে দেহরক্ষীরা শটগান হাতে নেমে রাস্তা যানজটমুক্ত করত। এ কাজ করতে গিয়ে সাফাতের দেহরক্ষীদের হাতে প্রায়ই মারধরের শিকার হতো অন্য গাড়ির চালক ও পথচারীরা।
বেশিরভাগ সময়ই সাফাতের সঙ্গে থাকত নাঈম আশরাফ, যে মূলত সাফাতকে অনৈতিক কাজে পরিচালিত করত। বিনিময়ে সাফাতের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিত বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে সাফাত বলে, প্রতি রাতেই সে ও তার বন্ধুরা পার্টি করত। পাঁচ তারকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এসব পার্টিতে বন্ধু-বান্ধবীরা হাজির থাকত। তাদের ২০-২২ জন বন্ধুর একটি গ্রুপ রয়েছে। এই গ্রুপের মধ্যে অনেকে দেশের বেশ কয়েকজন শিল্পপতি, রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের প্রভাবশালীদের সন্তান রয়েছে। তারা রাত হলেই একটি স্থানে জড়ো হয়। প্রতিরাতেই তারা পাঁচ তারকা হোটেলে বিভিন্ন পার্টি ছাড়াও রেসিং কার নিয়ে লং ড্রাইভে যেত। মাঝেমধ্যে ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ আশপাশের দেশে দলবেঁধে বান্ধবীদের নিয়ে ঘুরতে যেত।
প্রতিদিন হাত খরচের ২ লাখ টাকা তার বাবা দিত বলে জানায় সাফাত। কখনও এর বেশি টাকার প্রয়োজন হলে ঢাকা শহরে আপন জুয়েলার্সের সাতটি শোরুমের যেকোনো একটিতে ফোন করে অতিরিক্ত টাকা আনিয়ে নিত। কখনও তার বাবা এই টাকা খরচের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেনি।
সূত্র বলছে, ২৮ মার্চ রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণ ঘটনার সময় উপস্থিত দুই ধর্ষিতার বন্ধু শাহরিয়ার আহমেদকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। একপর্যায়ে শাহরিয়ার আহমেদকে সাফাতের মুখোমুখি করা হয়। শাহরিয়ার পুলিশকে বলে, সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার দুই বান্ধবীর আমন্ত্রণে সে সেখানে গিয়েছিল। ওইদিন সঙ্গে তার গার্লফ্রেন্ডও ছিল। সেদিন তার গার্লফ্রেন্ডকেও নির্যাতন করতে চেয়েছিল ধর্ষক সাফাত ও নাঈম। এ ক্ষেত্রে বেশি আগ্রাসী ছিল নাঈম।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী। ওই ঘটনায় ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ (সিরাজগঞ্জের আবদুল হালিম) ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে তারা। বর্তমানে সাফাত আহমেদ ছয় ও সাদমান সাকিফ পাঁচ দিনের রিমান্ডে রয়েছে। দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই মামলার পলাতক আসামি মোহাম্মদ হালিম ওরফে নাঈম আশরাফ, ড্রাইভার বেলাল ও দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদের অবস্থান জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আরও খবর