শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, ভোর ০৫:৫৮

মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী আরিফ আওয়ামী লীগের প্রার্থী একাধিক

Published : 2017-05-12 23:32:00
ফারুক আহমদ, সিলেট: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীরা তত্পর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ধরে নিয়ে তারা আগাম প্রচারণা শুরু করেছেন।
মেয়র পদে আগাম প্রচারণায় বিএনপির বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী একক প্রার্থী হিসেবে থাকলেও আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। ফলে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কে পাচ্ছেন-সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান না আসাদ উদ্দিন আহমদ নাকি আজাদ? বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যেও কথাবার্তা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও নিজের মনের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছেন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে তত্পর হয়ে উঠেছেন সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা।
অন্যদিকে বিএনপির বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী আবারও দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত। বিএনপির হাই কমান্ডও আরিফুল হকের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। ফলে এখনও বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী ছাড়া অন্য কেউ মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতার অন্য
আভাস দেননি। আর আগামী নির্বাচনে আবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন এমনটি নিজেও বিশ্বাস করেন বলে সকালের খবরকে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী।
সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ সালের ১৫ জুন। আগামী এক বছরের মধ্যে সিসিকের নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে মেয়র পদকে টার্গেট করে এখন থেকেই তত্পরতা চালাচ্ছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা। এর মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান দুবার সিসিকের নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। গত নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এর আগে কামরান টানা ১৮ বছর পৌরসভার কমিশনার ও চেয়ারম্যান এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। গত নির্বাচনে হারলেও মাঠ ছাড়েননি তিনি। কামরান আগামী নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
২০১৩ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর কামরানের বিকল্প হিসেবে আসাদ উদ্দিন আহমদকেই প্রার্থী করতে তত্পরতা শুরু করেছে দলের একটি অংশ। আসাদ উদ্দিন রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও নগরের মহল্লাভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়ে নিজের আগ্রহের কথা ব্যক্ত করছেন।
আসাদ উদ্দিন আহমদ সকালের খবরকে বলেন, ‘দলের সাধারণ কর্মীরাও আগামী নির্বাচনে আমাকে দলের নতুন প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। কেন্দ্র নিশ্চয়ই তৃণমূলের কর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে।’
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন টানা তিনবারের নির্বাচিত সিটি কাউন্সিলর মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ। তিনি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবেন বলে সকালের খবরকে জানান।
ইতোপূর্বে যারা সিসিক মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তারা সবাই প্রথমে কাউন্সিলর হিসেবে নগরবাসীর সেবা করেছেন। একইভাবে কাউন্সিলর আজাদই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন এমনটা মনে করছেন তার অনুসারীরা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কাউন্সিলর আজাদ নিজ ওয়ার্ডের পাশাপাশি নগরী জুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে।
উচ্চ আদালত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন। গত মাস থেকে আবারও সিসিকের মেয়রের দায়িত্ব ফিরে পান আরিফ। মেয়র হয়ে কারাবরণ ও বারবার বরখাস্ত হওয়ার ঘটনায় জনতার কাছে মেয়র আরিফ ক্রমেই আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। ফলে এই মুহূর্তে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে আরিফের কোনো বিকল্প নিয়ে ভাবছেন না কেউ। এমনকি গত নির্বাচনে যারা বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারাও নিজেদের প্রার্থিতার বিষয়ে আপাতত আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম সকালের খবরকে জানান, আপাতত বর্তমান মেয়র আরিফেরই বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। মহানগর বিএনপির দায়িত্বশীল হিসেবে তিনিও নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করবেন না বলে তিনি জানান।