শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০১:৪৮

ইতিবাচক পথচলায় আরো বেশি বেগবান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

Published : 2017-05-06 20:10:00, Updated : 2017-05-06 20:42:40
মো. দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা: হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এদেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, বাঙালি জাতির মুক্তির আন্দোলনে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। দেশ বিরোধী যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ছাত্রলীগ কাজ করে চলছে। ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম সম্মেলনের মাধ্যমে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়।

ইতিবাচক ধারায় ছাত্ররাজনীতি এক উধাহারণ তৈরি করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। যা আগেও ছিলো। আর বর্তমান কমিটি সেই ইতিবাচক ধারাবাহিকতাকে আরো বেগবান করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নব উদ্যোমে সব সময় পাশে থাকবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

প্রকৃত ছাত্ররাই ছাত্ররাজনীতি করছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বর্তমান ছাত্রলীগ তাদের প্রাত্যহিক কর্মসূচি পালনসহ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নানা ধরণের উন্নয়নমূলক, সেবামূলক কাজে সমর্থন যুগাচ্ছে। সাংস্কৃতিক, সামাজিক কর্মসূচিতেও বর্তমান ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলছে।

গত দুই বছরে বর্তমান কমিটির সাফল্যসমূহ:

  • পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গত দুই বছরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উদ্যোগে প্রায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়। এছাড়াও বিশ্ব পরিবেশ দিবসকে সামনে রেখে গত দুই বছরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, জেলায়, মহানগর, উপজেলায় প্রায় ৫ লক্ষ বৃক্ষরোপণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং তা অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর ৫ জুন কেন্দ্রীয়ভাবে ও জেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সবচেয়ে গৌরবের কাজ, অহংকারের কাজ হল স্বেচ্ছায় রক্তদান। প্রতি বছর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রায় ৩০ হাজার ব্যাগ রক্ত দান করে থাকে। দূর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা করে থাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের প্রতিটা মেডিকেল কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কমিটি রয়েছে। তাদের মাধ্যমে এ সকল অসহায় মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করে থাকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এছাড়াও সাধারণ মানুষকেও বিভিন্নভাবে বিভিন্নভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ।
  • শিক্ষার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কাজ করে চলছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রীদের উপর সরকার যে ভ্যাট নির্ধারণ করেছিলো তা প্রত্যাহারের জন্য সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানালে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার তা প্রত্যাহার করে নেন।
  • বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, ঢাবির ছাত্র/ছাত্রীদের সুবিধার জন্য, শিক্ষার মান উন্নয়ন, খাবারের মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য সম্মত থাকার জায়গা, আবাসন সংকট দূরিকরণসহ ২০১৬ সালে ঢাবির মাননীয় উপাচার্য বরাবর ১৯ দফা পেশ করে। এবং সেই ১৯ দফার আলোকে বিভিন্ন হলে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, সাধারণ ছাত্র/ছাত্রীদের অধিকার আদায়ের জন্য ২১ দফা দাবি পেশ করে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
  • বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অবস্থান জিরো টলারেন্স। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূল উপড়ে ফেলতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ২০১৬ সালে ও ২০১৭ সালে ৪ দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে। ২০১৭ সালের ৪ মার্চ সারা দেশব্যাপী জঙ্গিবাদ বিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছে। এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে প্রায় ১ কোটি মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। আর অসংখ্য মানুষ এই কর্মসূচিকে সমর্থন দিয়েছে।
  • বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় বিতরণ করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। ২০১৬ সালের বন্যায়, বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্য করার জন্য ৮ টি ত্রাণ টিম গঠন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। নীলফামারী,রংপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, বগুরা, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর,রাজবাড়ি, সুনামগঞ্জে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
  • অতি সম্প্রতি অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওর অঞ্চলে যে আগাম বন্যা হয়েছে সেখানেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ত্রাণ-সামগ্রী দিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন এই কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে। আগাম বন্যার কারণে ধানক্ষেত তলিয়ে গিয়েছে ফলে হাওর অঞ্চলে ও বিল অঞ্চলে ধান কাটার লোকের অভাব। তাই অসহায় কৃষকদের ধান কাটতে সাহায্য করেছে ছাত্রলীগ। নাটোরের চলন বিলে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেরাই ধান কেটে কৃষকদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। ধান মাড়াই করতেও সাহায্য করছে।
  • দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙা রাস্তায় জনদূর্ভোগ লাঘবের জন্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা নিজেদের উদ্যোগেই তা মেরামত করেছে, রংপুর, বরগুনা, মাগুরা, তার উদাহরণ। এছাড়াও সম্প্রতি ঝড়ের কবলে পড়ে অনেক গাছ উপড়ে রাস্তার উপর এসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ভেঙে পড়া গাছ দ্রুত সরিয়ে যান চলাচলে সহায়তা করেছে।
  • বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বর্তমান বিশ্বের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন। এই সংগঠনের সকল নেতা-কর্মী একই যোগ্যতা সম্পন্ন না। ফলে কেউ সংগঠন বিরোধী কোন কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোন ধরণের অন্যায়ের কাছে ছাত্রলীগ মাথা নত করে না। ছাত্রলীগের কোন নেতা যেখানেই কোন ধরণের অন্যায় করেছে সেখানেই সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমান ছাত্রলীগ বেশি জনসচেতন।
  • সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাত্রলীগ পিছিয়ে নেই। বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বিভিন্ন দিবসকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এই অনুষ্ঠান মূলত দেশাত্ববোধক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, বাঙালিয়ানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কোন অপসংস্কৃতির স্থান বাংলাদেশ ছাত্রলীগে নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পরিচালনায় একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠন করা হয়েছে। এই সংগঠনটির নাম ‘‘মাতৃভূমি সাংস্কৃতিক সংসদ’’। যেখানেই ছাত্রলীগের কমিটি রয়েছে সেখানেই ‘‘মাতৃভূমি সাংস্কৃতিক সংসদ’’ বাধ্যতামুলক।
  • জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’’ ও ‘‘ কারাগারের রোজনামচা’’ গ্রন্থ দুটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পড়া বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
  • বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিটে সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩২ টি ইউনিটে সম্মেলন সম্পূর্ণ করা হয়েছে এবং আগের আংশিক কমিটির প্রায় ৯৮ টি কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। বাকিগুলো খুব শীঘ্রই করা হবে। মেয়াদ উত্তীর্ণ ইউনিটগুলোতে খুব শীঘ্রই সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দিন রাত পরিশ্রম করে যে ভাবে বাংলাদেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেলে পরিণত করেছেন, বাংলাদেশকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশরত্নের এই পরিশ্রম, এই উন্নয়নের জয়যাত্রাতে কোন ভাবেই কালিমা লেপন করতে পারি না। আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে কাজ করি, তাঁর কণ্টকাকীর্ণ চলার পথকে মসৃণ করার দায়িত্বও আমাদের। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।

লেখক: দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।