বৃহস্পতিবার ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৪:১৪

মন্ত্রিপরিষদ থেকে জাপা সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি চূড়ান্ত

একান্ত সাক্ষাৎকারে এরশাদ

Published : 2017-05-05 00:29:00
আজমল হক হেলাল: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আগামীতে সরকার পরিচালনা করবে একবার আওয়ামী লীগ একবার জাতীয় পার্টি। বিএনপি তো বাইরে আছে। জাতীয় পার্টি এখন অনেক শক্তিশালী। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ইতোমধ্যে জাতীয় পার্টি ১৫০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ফেলেছে। বাকি আসনগুলোর জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের লবিতে বসে সকালের খবরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ এসব কথা বলেন।

সাক্ষাত্কারের শুরুতে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনার দলের তিনজন সদস্য মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন বলে শুনেছি-এ তথ্য কতটুকু সত্য, কবে পদত্যাগ করবেন? জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, মন্ত্রিপরিষদ থেকে জাতীয় পার্টির সদস্যদের পদত্যাগ করার বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় পার্টির সদস্যরা মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন। এ ব্যাপারে আমি, আমার স্ত্রী বেগম রওশন এরশাদ ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ তৃণমূল নেতা-কর্মীরা একমত হয়েছি। আর পদত্যাগের বিষয়ে বেগম রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করে পদত্যাগের দিন তারিখ ঠিক করার কথা ছিল। ব্যস্ত থাকার কারণে আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্পষ্টভাবে বলা যায়, অল্প সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য থেকে জাতীয় পার্টি বেরিয়ে আসবে।

সকালের খবর : জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা তো অনেক দুর্বল, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে আপনারা কি এককভাবে নির্বাচন করে ফল ভালো করতে পারবেন? নাকি আবার মহাজোটে গিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।

এরশাদ : বিএনপি অংশগ্রহণ করলে তখন দেখা যাবে। ভবিষ্যতে কী হবে বলতে পারছি না। তবে জাতীয় পার্টি রাজনৈতিকভাবে এখন অনেক শক্তিশালী সংগঠন। আবারও বলছি জাতীয় পার্টির এককভাবে নির্বাচনের সম্ভাবনা বেশি। দেশের জনগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনামল দেখেছে। তারা ৯ বছর জাতীয় পার্টিরও শাসনামল দেখেছে। দেশের জনগণ আগামী নির্বাচনে এসব বিবেচনা করেই তাদের সিদ্ধান্ত ব্যালটের মাধ্যমে রায় দেবে। তিনি বলেন, বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা নেই। তাদের শাসনামলে নির্যাতনের কথা জনগণ ভুলে যায়নি। জাতীয় পার্টি বর্তমানে বিএনপির চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো অবস্থানে যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে? তারা গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে ভুল করেছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন। তারা যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তা হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে। সেহেতু ধরে নেওয়া যায় তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে দেশের ইতিহাস অন্যভাবে রচিত হবে।

সকালের খবর : নির্বাচনী জোট করার কথা বলেছিলেন। কবে জোটের ঘোষণা করবেন?

এরশাদ : দুয়েকদিনের মধ্যে অর্থাত্ আজকালের মধ্যে জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে নতুন নির্বাচনী জোটের ঘোষণা করা হবে।

সকালের খবর : মহাজোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কবে বেরিয়ে আসবেন?

এরশাদ : জাতীয় পার্টি তো মহাজোটে নেই। জাতীয় পার্টি জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল। সংসদে যথাযথভাবে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করছে। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করছে। জনগণের বিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিলে জনস্বার্থবিরোধী আইন প্রণয়ন করার উদ্যোগ নিলে জাতীয় পার্টি বিরোধিতা করছে। বিরোধী দল মানে সংসদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নয়। সংসদে অশ্লীল ভাষায় বক্তব্য রাখা নয়। বিরোধী দলের দায়িত্ব সংসদকে কার্যকর করা। তাই দশম সংসদ অবশ্যই অতীতের অনেক সংসদের চেয়ে কার্যকর।

সকালের খবর : আপনার বিরুদ্ধে আর কতগুলো মামলা বিচারাধীন রয়েছে?

এরশাদ : গুনে বলতে হবে। এ মুহূর্তে সব মনে পড়ছে না। এসব মামলা বিএনপির শাসনামলে দায়ের করা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের সময় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করি মঞ্জুর হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলাতেও আমি ন্যায়বিচার পাব।

সকালের খবর : তিস্তা পানি চুক্তি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে আপনার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকটি হয়নি কেন?

এরশাদ : মমতা সাক্ষাত্ করতে চেয়েছিলেন। আমি সময় দেইনি। আমি আশাবাদী, তিস্তা চুক্তি বর্তমান সরকারের আমলেই হবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিয়েছেন।

সকালের খবর : হাওর এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?

এরশাদ : হাওর এলাকায় এমন পরিস্থিতি আগেও হয়েছে। তবে বাঁধটা ভালো হওয়া উচিত ছিল। সরকার হাওরবাসীর জন্য ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। হাওরের বিরাজমান সমস্যা থাকবে না। আর এর প্রভাব সারাদেশে পড়বে না।