বুধবার ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ০৮:৫৯

কাজ ও কম দামে চাল চায় হাওরের মানুষ

Published : 2017-05-03 23:21:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত কাজের ব্যবস্থা ও কম দামের চাল পাওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছে বৃহত্ হাওর হাকালুকি পারের কৃষক ও জেলেরা।
তারা জানান,  হাওরে পানিতে এখন মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ ধরতে পারছে না হাওরপারের জেলেরা। দিনমজুরের কাজ নেই। চালের দামও আকাশচুম্বী।
তারা বলেন, আমরা খয়রাতি চাই না। কাজের ব্যবস্থা এবং স্বল্প দামের চাল আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত চালু রাখা হোক।
বড়লেখা সংবাদদাতা জানান, বৃষ্টি থেমেছে। পানি কমছে। জনদুর্ভোগ বাড়ছে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরনির্ভর ছয়টি উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের।
অন্যদিকে সরকার খয়রাতি চাল, অল্প দামের চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। হাওর তীরবর্তী ইসলামপুর, হাল্লা, খুটাউরা, বাড্ডা, মুর্শিবাদকুরা, কটালপুর ও গগড়াসহ অন্য গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় শাহীন মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, ১০ টাকার পরিবর্তে ৫ টাকা মূল্যে চাল দিলেও মানুষের হাতে টাকা না থাকলে সে চাল ক্রয় করতে পারবে না।
তালিমপুর ইউনিয়নের খুটাউরা গ্রামের ইউপি সদস্য শিখা রানী বিশ্বাস বলেন, আগামী বোরো ধান না ওঠা পর্যন্ত সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হাওর সংলগ্ন গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের মধ্যে অধিক হারে খাদ্যশস্য বিতরণ প্রয়োজন।  
অন্যদিকে হাওরপারের গ্রামগুলোতে দেখা দিয়েছে প্রচুর গো-খাদ্য সঙ্কট। অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ও গো-খাদ্য সঙ্কটের কারণে অনেকে গরু-মহিষ বিক্রি করে ফেলেছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে দক্ষিণ সুনামগঞ্জের পাগলা হাইস্কুল মাঠে ১৪ দল নেতাদের হাওর পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত হাওরের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা থাকবে ততদিন পর্যন্ত
সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে খাবার ও ত্রাণ সাহায্য করা হবে। এই জেলায় আমাদের ১২৮টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে, এ ছাড়া পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। চিকিত্সার জন্য কাউকে এক পয়সাও দিতে হবে না। যেখানে যা যা করণীয় তা করা হবে। এই এলাকার মানুষ ভরসা রাখতে পারেন সরকারের প্রতি। যারা বক্তৃতা দেন তারা ঢাকায় বসে বক্তৃতা দেন।
এ সময় ১৪ দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতারা সদর উপজেলার লক্ষ্মণশ্রী ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেন।