শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৭:১২

অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় মৃত সন্তানকে কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফেরা

Published : 2017-05-03 16:40:00

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে গরুর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করার দিনই অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মৃত সন্তানের দেহ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক বাবা। দিনমজুর উদয়বীর সিং এটাওয়ার সরকারী হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ১৫ বছরের গুরুতর অসুস্থ ছেলেকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। কর্তব্যরত ডাক্তার উদয়বীরকে জানান যে তার ছেলে পুষ্পেন্দ্রর মৃত্যু হয়েছে।

উদয়বীর স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, "ডাক্তার মাত্র ৫ মিনিট দেখেই ছেলেকে মৃত ঘোষণা করে নিয়ে যেতে বলেন। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে কোন অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়নি। গাড়ি ভাড়া করার ক্ষমতা নেই আমার, তাই বাধ্য হয়েই ছেলের দেহ কাঁধে চাপিয়ে বাড়ি ফিরেছি।"

এটাওয়ার হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজীব যাদবের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "সে সময়েই একটা পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সম্ভবত চিকিৎসকরা তাদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়াতেই ওই কিশোরের জন্য মৃতদেহ বহনকারী গাড়ির ব্যবস্থা করা যায়নি। নি:সন্দেহে এটা লজ্জাজনক ঘটনা। কর্তব্যরত ডাক্তারদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তদন্তও শুরু হয়েছে।"

এটাওয়ার এলাকা থেকেই দীর্ঘদিন নির্বাচিত হয়ে আসছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব। সেখানকার সরকারী হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি মৃতদেহ বহনকারী গাড়িও রয়েছে বলে দাবী করে কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় সত্যটা প্রকাশ পেল। উদয়বীর সিং যখন কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতাল থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন কেউ একজন তার ছবিটা মোবাইলে তুলে নেয়। তারপরে সেটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে বলে।

একইদিনে এটাওয়া থেকে প্রায় তিনশো কিলোমিটার দূরে রাজধানী লখনৌতে রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য গরুদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবার উদ্বোধন করছিলেন। 'গো-বংশ চিকিৎসা মোবাইল ভ্যান' নামের সে পরিসেবা আহত এবং অসুস্থ গরুকে গোশালা বা পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছিয়ে দেবে। সঙ্গে একজন পশু চিকিৎসক এবং একজন সহকারীও থাকবেন। 'গো-সেবা' বিনা শুল্কের টেলিফোন নম্বরও চালু করা হবে।

এর আগে শববাহী গাড়ি না পেয়ে ওড়িশা রাজ্যে দানা মাঝি নামের এক অত্যন্ত গরীব ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর মরদেহ নিয়ে হাসপাতাল থেকে হেঁটে ১২ কিলোমিটার দূরের বাড়িতে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন। পাশে তাঁর কিশোরী কন্যা কাঁদতে কাঁদতে ফিরেছিল। একই ধরণের ঘটনার খবর ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পাওয়া গেছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা