শনিবার ২০ জানুয়ারি, ২০১৮, সকাল ০৯:২৩

আন্দোলন চাঙ্গা করতে বিএনপি সংস্কারপন্থীদের কাছে টানছে

Published : 2017-04-28 23:34:00
রেজাউল করিম লাবলু: এবার আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়ে ফিরতে চায় না বিএনপি। আগামীতে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামতে চাচ্ছে দলটি। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দীর্ঘদিন বাইরে থাকা সংস্কারপন্থী নেতাদের কাছে টানতে যাচ্ছে বিএনপি। এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সকালের খবরকে বলেছেন, সংস্কারপন্থী নেতাদের সম্পৃক্ত করতে চান চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই নেতাদের পর্যায়ক্রমে ডাকা হবে। ইতোমধ্যে বরিশালের জহির উদ্দিন স্বপন, নরসিংদীর সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও সুনামগঞ্জের নজির হোসেনকে ডেকে দলের পক্ষে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আগামীতে আরও নেতাকে ডাকা হতে পারে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করতে চান। দলের ঐক্য মজবুত করতে চান। এর অংশ হিসেবে আগামী দিনের আন্দোলন সংগ্রামে সফল হওয়ার জন্য আন্দোলন শুরুর আগেই এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
চেয়ারপারসনের সূত্র জানায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন মরহুম আবদুল মান্নান ভূঁইয়া, আশরাফ হোসেন ও মফিকুল হাসান তৃপ্তি। সে সময় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটু মন্তব্য করেছিলেন সংস্কারপন্থী নেতা মেজর জেনারেল (অব.) জেডএ খান। এ কারণে লন্ডনে অবস্থানরত সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেডএ খানের বিষয়ে সবুজ সঙ্কেত দেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান সকালের খবরকে বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বহিষ্কৃত নেতাদের বাদ দিয়ে বাকি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে বলেছিলেন তত্কালীন মহাসচিব মরহুম অ্যাডভোকেট খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে। কিন্তু খোন্দকার দেলোয়ার তখন বিএনপি চেয়ারপারসনের কথা রাখেননি। তখন থেকে সংস্কারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে অর্ধ শতাধিক নেতা দলের বাইরে ছিলেন। এখন দলের প্রয়োজনে তাদের দলের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত দুটি আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে। আগামীর আন্দোলনে আর ব্যর্থ হওয়া যাবে না। তাই সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে দলের বাইরে থাকা নেতাদের দলে সম্পৃক্ত করা হবে। সংস্কারপন্থীদের দলে আনার বিষয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সকালের খবরকে বলেন, দলের জন্য এটি একটি পজিটিভ উদ্যোগ। যাদের সংস্কারপন্থী বলা হচ্ছে তারা ওয়ান-ইলেভেনে ভুল করেছিলেন। ক্ষমতাসীন সরকার যখন একতরফাভাবে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেছিল তখন সংস্কারপন্থী নেতাদের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তারা সরকারের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেননি। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছেন, তারা বিএনপিকে ভালোবাসেন।  
ফিরেছেন যারা : ওয়ান-ইলেভেনের পর দলের পঞ্চম কাউন্সিলের মাধ্যমে কয়েকজন সংস্কারপন্থী নেতা দলে ফিরেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, সাদেক হোসেন খোকা, ড. ওসমান ফারুক, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, শাহ মোহম্মদ আবু জাফর, আসাদুল হাবিব দুলু, মাসুদ অরুণ, মোশাররফ হোসেন মঙ্গু, শামসুল আলম প্রমাণিক, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, শহিদুজ্জামান বেল্টু, মোজাহের হোসেন, নাসিরুল হক সাবু, ড. সালেক চৌধুরী ও কাজী রফিক।
এখনও বাইরে যারা :  মেজর জেনারেল (অব.) জেডএ খান, মোফাজ্জল করিম, শাহ মো. আবুল হোসাইন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জিএম সিরাজ, ডা. জিয়াউল হক মোল্লা, এসএ সুলতান টিটু, ইঞ্জিনিয়ার শহিদুজ্জামান, নুরুল ইসলাম মনি, শামীম কায়সার লিঙ্কন, ইলেন ভুট্টো, আলমগীর কবীর, আবু হেনা, আবদুল গণি (মেহেরপুর), দেলোয়ার হোসেন খান দুলু (ময়মনসিংহ), আতাউর রহমান আঙ্গুর (নারায়ণগঞ্জ), আবদুল করিম আব্বাসী (নেত্রকোনা), আবু ইউসুফ খলিলুর রহমান (জয়পুরহাট), মেজর জে. (অব.) আনোয়ারুল কবীর তালুকদার (জামালপুর), এমএম শাহীন (মৌলভীবাজার), ফজলে আজিম (নোয়াখালী). শাম্মী শের (মুন্সীগঞ্জ), একেএম আনোয়ারুল হক (ময়মনসিংহ), শাহরিয়ার আক্তার বুলু প্রমুখ। উল্লেখ্য, ওয়ান-ইলেভেনের সময়ে ১১৬ জন সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।

আরও খবর