বুধবার ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮, বিকাল ০৫:৫২
ব্রেকিং নিউজ

■  ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা হবে ৩০ লাখ: আইএলও ■  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ দায়ী: মিয়ানমার ■  হবিগঞ্জে কৃষক হত্যায় একই পরিবারের ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড ■  পশুখাদ্য মামলায় ফের ৫ বছরের কারাদ্ণ্ড লালুপ্রসাদের ■  আ.লীগ ৪০টির বেশি আসন পাবে না : জানালেন মোশাররফ ■  নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন হবে না: হুশিয়ারি ফখরুলের ■  ২৯ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট ডেকেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট ■  চবিতে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্যের মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা ■  ঢাবি উপাচার্যকে হেনস্তার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ■  আফগানিস্তানে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ কার্যালয়ে হামলা, নিহত ২ ■  ঢাবিতে অরাজকতা হতে দেওয়া হবে না: হুশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর: অভিজ্ঞ হয়ে উঠছেন ঢাকার দুই মেয়র

Published : 2017-04-28 23:29:00
রেজা করিম: বিভক্তির পর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল। নির্বাচনে আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন যথাক্রমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। সম্প্রতি নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর পার করেছেন তারা। আগামী ৬ ও ৭ মে মেয়রদ্বয়ের দায়িত্বগ্রহণেরও দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে। গেল দুই বছরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নগরকে বদলে দেওয়ার জন্য কাজ করে চলেছেন তারা। অনেক ক্ষেত্রে সফলতা এলেও ব্যর্থতাও রয়েছে বেশ। এরপরও প্রথম বছরে অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও দ্বিতীয় বছরে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন দুই মেয়রই। পরবর্তী বছরগুলোতে অভিজ্ঞতা অর্জনের মধ্য দিয়ে নগরকে সাজাতে আরও ভালো কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন নগরবাসী ও বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) বিলুপ্ত হওয়ার পর দুই করপোরেশন হয়। প্রশাসক দিয়ে এরপর চলেছে সাড়ে চার বছর। করপোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এ সময়টাতে নগরে সেবাদানের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ হানিফের পুত্র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়রের চেয়ারে বসেন ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক। সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপালনের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় পরিস্থিতি বুঝতেই প্রথম বছরের অনেকটা সময় কেটে যায়। ওই বছরটিতে নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে এ বছরটিতেও বেশকিছু উল্লেখ করার মতো ঘটনা ঘটিয়েছেন দুই মেয়রই। প্রথম বছরে দায়িত্ব পালনে তাদের সবচেয়ে বড় অর্জন ঢাকার আকাশ মুক্ত করার কাজ। বিলবোর্ডের জঞ্জালে ছেয়েছিল পুরো নগর। সেই জঞ্জাল মুক্ত করতে সমর্থ হন তারা। দায়িত্ব পালনের দুই বছরে দুই মেয়রই অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন-যা আগে সম্ভব হয়নি।
ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের কর্মকাণ্ডের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হচ্ছে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সরানো ও গাবতলীর একটি সড়ক হকার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। ক্ষমতাধর বিভিন্ন পক্ষের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করে সড়ক চালু করা ও গাবতলীর একটি সড়ককে অবৈধ দখলদারমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উপযোগী করে সর্বমহলের প্রশংসা অর্জন করেন তিনি। মেয়র আনিসুল হকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হচ্ছে, কূটনৈতিকপাড়া গুলশানসহ বনানীর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া। ২০১৬ সালে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই গুলশান ও বনানীর নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি।
এ জন্য গুলশান এলাকায় নিয়ন্ত্রিত নিবন্ধিত রিকশা চালু এবং গুলশানের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসের রুট পারমিট বাতিল করে শুধু গুলশান-বনানীতে চলাচলকারী ‘ঢাকা চাকা’ নামে আলাদা বাসের ব্যবস্থা করেন তিনি। তেজগাঁও, মহাখালী, গুলশান, বনানী, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিস নির্মাণ করা হয়েছিল। মেয়রের নির্দেশে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হয়।
অন্যদিকে নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত গুলিস্তান ও এর আশপাশের এলাকার সড়ক-ফুটপাত হকারমুক্ত করতে সমর্থ হয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন, যেটি দুই বছরের দায়িত্ব পালনকালের সবচেয়ে বড় সফলতা। গুলিস্তানের ফুটপাতকে হকারমুক্ত করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন মেয়র খোকন। তবে করপোরেশনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রভাবশালীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে গুলিস্তানের ফুটপাত হকারমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ফুটপাত জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখতে ডিএসসিসি মেয়র কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। পুরান ঢাকায় কেমিক্যালের গুদামগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দক্ষিণের মেয়রের নির্দেশে সেখানে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু কেমিক্যালের গুদাম উচ্ছেদ করা হয়। ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকনের আরেকটি উল্লেখ করার মতো কাজ হচ্ছে-সরাসরি জনগণের কাছে তাদের দাবিদাওয়া শুনছেন। ‘জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি’ নামে এলাকাভিত্তিক এ অনুষ্ঠানটি ইতোমধ্যে নগরবাসীর মনে বেশ সাড়া ফেলেছে।  
ঢাকার মেয়রদ্বয়ের এত সফলতার গল্প চাপা পড়ে যায় ব্যর্থতার ভিড়ে। খানাখন্দে ভরা সড়ক ও জলজটের ভোগান্তিসহ অনেক দুর্ভোগ থেকে এখনও নগরবাসী মুক্ত হয়নি। ক’দিন আগে বৈশাখে আষাঢ়ের মতো বর্ষণে নগরীতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় যা বেশ ভুগিয়েছে নগরবাসীকে। বৃষ্টি থামলেও ভোগান্তির শেষ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে ফ্লাইওভার নির্মাণকে ঘিরে নগরবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দুই সিটির প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের কোনো না কোনো রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। ঢাকা উত্তরের উত্তরা, খিলক্ষেত, লেকসিটির প্রবেশ সড়ক, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, মগবাজার, রামপুরা এবং ঢাকা দক্ষিণের যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, হাজারীবাগ, ইসলামবাগ, রাজারবাগসহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ভেঙেচুরে একাকার হয়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই তীব্র জলজটের কবলে পড়ে রাজধানীর অনেক সড়ক। এতে করে জলজট-যানজটসহ নানা বিড়ম্বনা সহ্য করতে হয় মানুষকে।
সম্প্রতি দায়িত্ব পালনের দুই বছর উপলক্ষে নগরভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় করেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। দুই বছরের সফলতা-ব্যর্থতা নিয়ে এ সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের নানা পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে করপোরেশন চালাতে হচ্ছে। এরপরও দায়িত্ব পালন করতে চাপ অনুভব করিনি। চাপের বিপরীতে কাজটাকে উপভোগ করে এসেছি। বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই এর সুফল দেখা যাবে। ডিএনসিসি মেয়র আনিসুল এখনও পর্যন্ত দুই বছরের কার্যক্রম নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি। তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও খবর