শুক্রবার ১৯ জানুয়ারি, ২০১৮, রাত ১১:৩২

কুসিক নির্বাচন: আনন্দমুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ

Published : 2017-03-15 20:29:00
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আজ ১৫ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মণ্ডল চার মেয়র প্রার্থী ছাড়াও ১১৪ কাউন্সিলর ও ৪০ জন সংরক্ষিত প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন।

এতে আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা নৌকা, বিএনপি দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ধানের শীষ, জেএসডির শিরিন আক্তার তালা এবং স্বতন্ত্র মামুনুর রশিদ টেবিল ঘড়ি প্রতীক পেয়েছেন। প্রতীক বরাদ্দ নিতে সকাল থেকে টাউন হল মিলনায়তন এবং মাঠে ভিড় জমায় প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় সব দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে নগরীর কান্দিরপাড়স্থ টাউন হল মাঠসহ আশপাশের এলাকায় উত্সবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর পর্যন্ত সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ চলে। সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে চারজনসহ সর্বমোট ১৫৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এদিকে কুসিক নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন আওয়ামী লীগের আঞ্জুম সুলতানা সীমা ও বিএনপির মনিরুল হক সাক্কু।

মেয়র পদে অন্য দুই প্রার্থী জাসদের শিরিন আক্তার তালা মার্কা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ টেবিল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নগরীর ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন।

এর আগে এ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেও মেয়র পদে লড়াই হয়েছিল দ্বিমুখী। আর ওই লড়াইয়ের জের সামনে রেখে এবারও আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামছে দুই দল। স্থানীয় শক্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে দুই দলের কেন্দ্রীয় শক্তি। ফলে কুসিক নির্বাচন এবার ‘জাতীয় রাজনীতির পরাশক্তির লড়াই’য়ে রূপ নিতে যাচ্ছে। প্রতীক পাওয়ার পরপরই দুই দলই মাঠে নেমে তাদের শক্তির জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগে মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা।

নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দু’দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা কুমিল্লায় আসা শুরু করছেন। কুসিক নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গত মঙ্গলবার থেকেই কুমিল্লায় অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াসহ জেলা পর্যায়ের নেতা আবদুল আউয়াল খান, শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ নেতাকর্মী রয়েছেন।

অন্যদিকে কুসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ও সদস্য সচিব একেএম এনামুল হক শামীম কুমিল্লায় অবস্থান করে মিছিল ও প্রচার তদারকি করছেন। কাজী জাফরউল্লাহ এ বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনিদের্শনা দিচ্ছেন। ওয়ার্ডভিত্তিক মিছিল ছাড়াও কেন্দ্রীয়ভাবেও কুমিল্লা নগরীতে বিশাল মিছিল বের হয়েছে। মিছিলে ২৭ জন কেন্দ্রীয় নেতার পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীরাও যোগ দেন।
আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা প্রতীক পাওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘নৌকা প্রতীক পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন, আমি বিজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। আপনারা সবাই সমবেত হন, নৌকায় উঠুন, স্লোগান তুলুন-কুমিল্লায় মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান নেই।’

প্রতীক পেয়েই নৌকার প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা টাউন হল থেকে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে কেন্দ্রের ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে প্রতীক পাওয়ার পর বিএনপিদলীয় প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কুমিল্লার মানুষের মাঝে গণজোয়ার ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে।’ প্রতীক পাওয়ার পর মনিরুল হক সাক্কু সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর-ভাটপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন।
রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল জানান, আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ করার লক্ষ্যে সব ধরনের কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭ হাজার ৩শ’ ৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২ হাজার ৩শ’ ২৯ আর নারী ভোটার ১ লাখ ৫ হাজার ৫৫ জন।