মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ১২:১১

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্গতি

Published : 2017-04-26 22:25:00, Updated : 2017-04-27 09:39:10
ড. অরুণ কুমার গোস্বামী: দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য কোনো ভালো মানুষকে আইনের কথা বলার প্রয়োজন হয় না, আবার আইন থাকা সত্ত্বেও খারাপ মানুষেরা ভিন্ন একটি পথ খুঁজে পাবে। (Good people do not need laws to tell them to act responsibily, while bad people will find a way around the laws.) আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিক নগররাষ্ট্র এথেন্সের রাষ্ট্র দার্শনিক প্লেটোর বলা এই কথাগুলো আজও অনেক ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্লেটোর এই কথাগুলোর প্রকৃষ্ট উদাহরণ সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। প্লেটোর বক্তব্য সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অপরপক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশের একশ্রেণির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা-ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ‘শিক্ষক’ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গ, কিছু শিক্ষার্থী এবং ‘শিক্ষা-ব্যবসায়ের’ পেশায় নিয়োজিত কতিপয় মানুষের জন্যই শিক্ষাঙ্গন কলুষিত হচ্ছে এবং শিক্ষার গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে!
বর্তমানে দেশের বহুল আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ‘শিক্ষা’ অন্যতম। শিক্ষা তথা উচ্চশিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য হল দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থিতিশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরকে সম্পৃক্ত করার যথোপযুক্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে থাকে। এভাবে উপযুক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থা, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত ও তথ্য বিপ্লবের সুযোগ গ্রহণ করে শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, গাইড বই দেখে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার কারণে সবকিছুই ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে! বলা বাহুল্য, এসব কিছুর ইতিবাচক পরিস্থিতি নির্ভর করে মূলত ‘শিক্ষকদের’ ওপর। সেদিন কতিপয় শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাকরিদাতা সংস্থার একজন সদস্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল। তারা বলছিল, মৌখিক বোর্ডের মধ্যে সেই সদস্য গাইড বই দেখে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে থাকেন। এভাবে প্রায় সব শ্রেণি-পেশার আলোচনার কেন্দ্রে আছেন ‘শিক্ষক’। আরও সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় যে ‘শিক্ষকরাই’ যেহেতু শিক্ষার্থীদেরকে উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে থাকেন, অতএব ‘শিক্ষা’ সম্পর্কিত আলোচনা-সমালোচনার মূল কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ‘শিক্ষক’।
ভালো শিক্ষকের গুরুত্ব গোপনীয় কোনো বিষয় নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সবসময় সর্বোত্তম শিক্ষক খোঁজ করেন। কারণ তারা বিশ্বাস করেন যে শিক্ষার্থীদের সফলতা নির্ভর করছে ভালো শিক্ষকদের ওপর। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্যি, কিছু শিক্ষকের অসততা পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য দায়ী। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে না পারার জন্য কিছু শিক্ষকের অসততাকে দায়ী করেছেন! মন্ত্রী মহোদয় নিশ্চয় যথোপযুক্ত প্রমাণ পেয়েই কথাগুলো বলেছেন। শিক্ষক কর্তৃক প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘পরীক্ষার দিন সকালে শিক্ষকদের কাছে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার পর ফেসবুকের মাধ্যমে তা ফাঁস করা হচ্ছে। যখন বিভিন্ন জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়েছে তখন তা ফাঁস হয়নি। ভোররাত থেকে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে আসে। প্রশ্নপত্র শিক্ষকের হাতে পৌঁছে দিয়ে সরবরাহকারীরা যখন চিন্তামুক্ত হচ্ছেন, তখনই অর্থাত্ পরীক্ষা শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে আসতে দেখা যাচ্ছে।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘পরীক্ষা শুরুর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দিতে হয়। কারণ গ্রামাঞ্চলে এই প্রশ্ন নিয়ে যেতে হয়।’ তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন এমন একটি পরিবেশের মধ্যে আছি চাইলেও সবকিছু খুলে বলতে পারি না। আবার সহ্যও করতে পারি না।’
পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিজি প্রেস ছাড়াও ছাপানো সম্ভব মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘বিজি প্রেসেই কিছু দুর্নীতিবাজ মানুষ গেড়ে বসেছিল। তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কারও কারও চাকরি চলে গেছে। কেউ কেউ জেলে গেছে।’ শিক্ষা মন্ত্রণালয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। দুদকের অগ্রিম সতর্কতামূলক পদক্ষেপের ফলেই এবার রাজধানীর নামিদামি বিদ্যালয়ে ভর্তি বাণিজ্য হয়নি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, অতীতে প্রতি বছরই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কোনোবারই এবারের মতো স্বচ্ছভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি। দুদকের কার্যক্রমের কারণে এবার প্রত্যাশিত ফল পাওয়া গেছে। অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের সহযোগিতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাজে লেগেছে মন্তব্য করে মন্ত্রী ভবিষ্যতেও সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজে থাকাকালে গড়ে ওঠা এসব কলুষিত অভ্যাস শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবনকেও প্রভাবিত করতে বাধ্য।
‘গাইড বই’ শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত হওয়ার পথে প্রচণ্ড বাধা সৃষ্টি করে থাকে। কিছু মুনাফালোভী পুস্তক ব্যবসায়ী সস্তা গাইড বই লিখে এবং লিখিয়ে প্রচুর লাভ করছে। আর এতে সহায়তা দিয়ে থাকে একশ্রেণির শিক্ষক। এ ধরনের কয়েকজন শিক্ষককে শাস্তি দিয়েছে সরকার। সংবাদমাধ্যমের পরিবেশিত খবর থেকে জানা যায়, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্ন হুবহু গাইড বই থেকে তুলে দেওয়ার শাস্তি হিসেবে এক শিক্ষককে ফেনী থেকে খাগড়াছড়িতে বদলি করেছে সরকার। একই সঙ্গে চার শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদমাধ্যম সূত্রে বলা হয়, পৃথক অফিস আদেশে আবদুল ওহাব নামের একজন শিক্ষককে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে খাগড়াছড়ির রামগড় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্ন পরিশোধনকারী কুমিল্লা জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক রিক্তা বড়ুয়া, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছিমা খানম ও নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. কামিম আক্তারকেও সাত কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষা ২০১৬-এর বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও পরিশোধনের দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতা ও অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাজারে প্রকাশিত গাইড বই থেকে প্রশ্ন করায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্লেটোর বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে এই ঘটনাটিকে গণ্য করা যেতে পারে। এখানে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন বলে দেওয়া হলেও এসব শিক্ষক সে অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেনি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের পাশাপাশি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণও শিক্ষার গুণগত মানকে বাধাগ্রস্ত করছে। সম্প্রতি ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে বক্তৃতাকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশেও বাধা সৃষ্টি করছে এবং আমাদেরকে এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’ রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘ভিশন ২০২১’ ও ‘ভিশন ২০৪১’ অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে। এজন্য এই চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করে আমাদের জনগণকে শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, ‘দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চমত্কার জায়গা হল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। বিশ্ব এখন অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ হওয়ায় এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই দেশে ও বিদেশে উচ্চতর শিক্ষার প্রসার ঘটেছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ও পরিবেশ এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।’ তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয় বহুমুখী জ্ঞানচর্চার স্থান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দৈনন্দিন শিক্ষাসূচির পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিষয়েও জ্ঞানার্জন করতে পারে।’
শিক্ষা সম্পর্কিত আরেকটি আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে কোনো কোনো শিক্ষার্থীর ‘জঙ্গিবাদে’ জড়িয়ে পড়া। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীরা যেন জঙ্গিবাদে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে অভিভাবক-শিক্ষক সবাইকেই লক্ষ রাখতে হবে। দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ২০তম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তৃতায় সম্প্রতি তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশে যখন উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই একদল স্বাধীনতাবিরোধী এ উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে ব্যাহত করার জন্য ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাস ও জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের কুমন্ত্রণায় প্ররোচিত হয়ে বেশ কিছু তরুণ মেধাবী শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বিপথগামী হয়েছে।’ তিনি এসব মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী যাতে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যাদানকারী জঙ্গিদের কবল পড়ে জীবন ধ্বংস না করে সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
পিট্সবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং জ্যেষ্ঠ বিহেভিয়রাল সায়েন্টিস্ট লরা এস. হ্যামিলটন তার ‘টিচারস ম্যাটার : আন্ডারস্ট্যান্ডিং টিচার্স ইমপ্যাক্ট অন স্টুডেন্ট অ্যাচিভমেন্ট’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সফলতার পেছনে অনেক উপাদান কাজ করে থাকে। এগুলোর মধ্যে আছে শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা প্রভৃতি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক উপাদানগুলোর মধ্যে ‘শিক্ষকই’ প্রধানতম। যখন পড়া ও গণিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের কথা বলা হয় তখন দেখা যায় যে, সেবা ও সুযোগ-সুবিধা এবং এমনকি নেতৃত্বের দিক থেকে অন্য যেকোনো উপাদানের চেয়ে, ‘শিক্ষক’-এর প্রভাব দুই থেকে তিন গুণ বেশি। এক কথায় বলা যায়, শিক্ষকই হচ্ছেন মানুষ গড়ার আসল কারিগর। তাই শিক্ষককে হতে হয় দায়িত্বশীল শিক্ষাগুরু, নেতা, পথপ্রদর্শক, দার্শনিক এবং অভিভাবক। যারা সমাজের মানুষদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার তথা ভবিষ্যতের কর্ণধারদের কণ্টকাকীর্ণ পথকে সুগম করে তোলার লক্ষ্যে দিন-রাত পরিশ্রম করেন তাদেরকে প্রচলিত আইন, নিয়ম-কানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সৃজনশীল, শালীন, সত্ ও যোগ্য থাকার লক্ষ্যে অবিরত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়।
লেখক : চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং পরিচালক, সাউথ এশিয়ান স্টাডি সার্কেল