বুধবার ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, দুপুর ০১:৩৫

সুন্দরগঞ্জে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে পাঠগ্রহণ

Published : 2017-04-21 23:39:00, Count : 117
গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইাবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বেকাটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। যে কারণে আকাশে মেঘ দেখলেই শিক্ষার্থীদের বই-খাতা গুছিয়ে নিয়ে বাড়ি যেতে হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে বেকাটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। টিনশেড ঘরে চলে আসছিল বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। গত ১৫ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়টির টিনশেড ঘরটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। সে কারণে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ না করে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজেই পাঠ গ্রহণ করছে। মেঘ দেখলেই শিক্ষার্থীরা বই-খাতা গুছিয়ে নিতে শুরু করে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৯১ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে শিশু শ্রেণিতে ৩৮, প্রথম শ্রেণিতে ৩৭, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৬০, তৃতীয় শ্রেণিতে ৫৯, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪৩ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৩২ জন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ।
সরেজমিন বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে পাঠদানের কারণে অনেক শিক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মঞ্জু মিয়া, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী পল্লবী রানী জানায়, কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হয়েছে। এজন্য এখন অনেক ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয়ে আসছে না। কারণ বসার জায়গা নেই, নেই পায়খানা-প্রস্রাবের ব্যবস্থাও। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই সরকারিভাবে পাকা ভবন জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণ করা দরকার। এ নিয়ে কথা হয় সহকারী শিক্ষক মহসিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, ভবন না থাকার কারণে ঠিকমতো পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ খোলা আকাশের নিচে পাঠদানে শিক্ষা উপকরণের সঠিক ব্যবহার করা যায় না। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোজাফ্ফর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল ঝড়ে বিদ্যালয়টি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে পড়াশোনায় ভাটা পড়েছে। ঝড়ে বিধ্বস্ত বিদ্যালয়ের ঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকালের খবরকে জানান, বিদ্যালয়টি মেরামতের জন্য বরাদ্দ চেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, আপাতত স্থানীয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।