রবিবার ৩০ এপ্রিল, ২০১৭, রাত ১০:৪১

মেয়র নাছিরের দুঃখ প্রকাশ: বৃষ্টিতে কোমরপানি চট্টগ্রামে

Published : 2017-04-21 23:25:00, Count : 136
চট্টগ্রাম ব্যুরো: কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ এলাকা। গতকাল সকালের বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। ফলে নগরবাসীকে পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি। দুই নম্বর গেট, চকবাজার, হালিশহর, আগ্রাবাদ, পতেঙ্গা, ষোলশহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, বাকলিয়াসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর অসুবিধা হওয়ায় ‘আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ’ করেছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টায় সরেজমিন আগ্রাবাদ, সিমেন্ট ক্রসিং ও ১৫ নম্বর ঘাট এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দুঃখ প্রকাশের বিষয়টি জানান মেয়র।
মেয়র বলেন, অতিবর্ষণ ও কর্ণফুলীর ভরা জোয়ারের কারণে পানি নামতে পারেনি। সকাল ৭টা থেকে ৯টার সময় যখন বৃষ্টি হয় তখন জোয়ারের কারণে পানি নামতে পারেনি। এরপর যখন ভাটা শুরু হয় তখনও বৃষ্টি পড়ছিল। তবে দুপুর ১২টার মধ্যে প্রবর্তক মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার পানি নেমে গেছে। ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে এই নগরের যে খাল-নালা বিদ্যমান রয়েছে তার জন্য সহনীয়। সে তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। সকাল থেকে টানা বর্ষণে নগরীর মেহেদীবাগ, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, বাকলিয়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, প্রবর্ত্তক মোড়, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, মোগলটুলীসহ বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল হাঁটুপানিতে ডুবে যায়। হঠাত্ ভারি বৃষ্টিতে অনেক এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।
এদিকে ভারি বর্ষণে নগরবাসী দুর্ভোগের কবলে পড়লেও তীব্র তাপদাহ কেটে গিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানবাহন কমে যাওয়ায় নগরজীবনে নেমে আসে আরেক দুর্ভোগ। নগরীতে সকাল থেকে ছিল যানবাহনের স্বল্পতা। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, জিইসি মোড়, টাইগার পাস, চৌমুহনী ও বাদামতলী মোড়ে ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। নগরবাসীর অভিমত সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় এবং চট্টগ্রামের সব সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় জলাবদ্ধার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
এদিকে আজও এ ধরনের বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে জানিয়ে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ শরীফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ইতোমধ্যে ভারি বর্ষণের সতকর্তা জারি করা হয়েছে এবং ভারি বর্ষণের ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্কবাণীও দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি নিম্নচাপ এবং এদের মধ্য থেকে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভোররাত ২টা ৫৭ মিনিটে কর্ণফুলীতে জোয়ার শুরু হয়, যা স্থায়ী ছিল সকাল ৯টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত। ৯টা ১৮ মিনিটে শুরু হয় ভাটা। আবার জোয়ার আসবে বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে, যা স্থায়ী হবে রাত ৯টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।
এদিকে বরাবরের মতোই জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদের সিডিএ আবাসিক এলাকার পুরোটাই হাঁটুপানিতে ডুবে গেছে। এক্সেস রোড, শান্তিবাগ, বেপারিপাড়া, মুহুরীপাড়া, রঙ্গিপাড়া, শ্যামলী আবাসিক, আগ্রাবাদ হাউজিং, ছোটপুল এলাকায় পানি থই থই করছে।
ছুটির দিনের সকালের এই বৃষ্টিতে বাজারে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয় নগরবাসীকে। রিকশা কিংবা অন্যান্য যানবাহন না পেয়ে অনেকে হেঁটেই বাজার থেকে বাড়ি ফিরেছে। ছুটির দিনে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ টেম্পোতে করে নগরীর বারিক বিল্ডিং থেকে চকবাজারে যায়। কিন্তু টেম্পো না পেয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘক্ষণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকেছে। অনেকেই গাড়ি না পেয়ে বাসায় ফেরত গেছে। বৃষ্টির সুযোগে রিকশাওয়ালারা হেঁকেছে চড়া দাম।
আগ্রাবাদ ছোটপোল এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাদের জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো আগ্রাবাদ-হালিশহর সিডিএ এলাকা। মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তিনি জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সব সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রমের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে বৃষ্টির পানি এবং জোয়ারের কারণে সৃষ্ট পানি সরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমস্যার আশু সমাধান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।