শনিবার ২১ অক্টোবর, ২০১৭, সকাল ০৭:২৩

ড. এমাজউদ্দীনের তিন প্রস্তাব: নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ বিএনপির

Published : 2017-04-21 23:23:00, Count : 191
রেজাউল করিম লাবলু: আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির কথা বলছে বিএনপি। তবে এখনও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিয়ে তাদের রূপরেখা জাতির সামনে উপস্থাপন করেনি দলটি। কেমন পরিবেশ চায় বিএনপি-এ বিষয়ে জানতে চাইলে দলটির থিঙ্কট্যাঙ্কখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গতকাল সকালের খবরকে বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সরকার পরিচালনায় তার তিন দফা প্রস্তাব রয়েছে। প্রথমত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সময়ে সরকারপ্রধান থাকতে চাইলে তিনি অতীতের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানের মতো দৈনন্দিন কাজ করবেন। নীতিনির্ধারণী কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, সরকারের স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে দিতে হবে। যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কেউ কারো বিষয়ে আপত্তি তুললে তাকে ইসি সরিয়ে দিতে পারে। তৃতীয়ত, নির্বাচনকালীন সময়ে সংসদ চলমান রাখা যাবে না। নির্বাচনের তিন মাস আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে।
গত বুধবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান থাকবেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিষয়টি থাকবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে। ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে এমন প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে আওয়ামী লীগ।
‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে প্রস্তাব দিয়েছে, বিএনপি কবে রূপরেখা দেবে’-এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সকালের খবরকে বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা বিএনপি শিগগিরই দেবে। তারপর দেখা যাবে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়। তার আগে বিএনপি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। কেমন লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড চান-জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছে। কিন্তু বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দিচ্ছে না। সরকারি দলের মতো বিএনপিকেও সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা তুলে নিতে হবে।
ইসি গঠন নিয়ে সংলাপে রাষ্ট্রপতির কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সে সম্পর্কে এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, দলীয় পর্যায়ে কে কী বলল তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ কে কবে কী বলেছে, না বলেছে তা ভুলে যাবে। বরং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা আসতে হবে। তাছাড়া বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসতে হবে আলোচনার জন্য। এরপর নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে হবে ও আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে তা প্রকাশ করতে হবে। তাহলে দেশের জনগণ ও বিদেশি বন্ধু রাষ্ট্রগুলো আশ্বস্ত হবে।  
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সকালের খবরকে বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে কী বলেছেন তা স্পষ্ট করে বলতে হবে। একেক সময়ে একেক কথা বললে চলবে না। তাছাড়া তারা কথা দিয়ে কথা রাখেন না। পরে অস্বীকার করেন।

আরও খবর