সোমবার ২৩ অক্টোবর, ২০১৭, রাত ১১:১৯

লাকী আখান্দ আর নেই

Published : 2017-04-21 23:22:00, Count : 195
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রখ্যাত সুরকার, সংগীত পরিচালক ও গায়ক লাকী আখান্দ আর নেই। ক্যানসারের কাছে হেরে গেলেন এই সংগীত ব্যক্তিত্ব। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় মিটফোর্ড হাসাপাতালে মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর।
শিল্পীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার ঘনিষ্ঠজন এরশাদুল হক টিংকু। তিনি বলেন, টানা আড়াই মাস হাসপাতালে কাটানোর পর গেল সপ্তাহে রাজধানীর আরমানিটোলার নিজ বাসায় ফিরেছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দ। গতকাল দুপুর নাগাদ তার অবস্থার অবনতি ঘটে। সন্ধ্যার আগে দ্রুত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে। কিছুক্ষণ পরই কর্তব্যরত চিকিত্সক লাকী আখান্দকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংগীতের এই প্রিয় মানুষটির মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লাকী আখান্দ অনেক দিন ধরেই মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ছয় মাসের চিকিত্সা শেষে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক থেকে দেশে ফেরেন তিনি। সেখানে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অনেকটা উন্নতি হয়েছিল তার। একই বছরের জুনে আবারও থেরাপির জন্য ব্যাঙ্কক যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে পরে আর তার সেখানে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। অসুস্থতার প্রথম থেকেই লাকী আখান্দ ও তার পরিবার কোনো রকম আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়ে অসম্মতি প্রকাশ করে আসছিলেন। তবে ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর চিকিত্সা সহায়তার অনুদান।
১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকী আখান্দের প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’ প্রকাশ পায়। তার উল্লেখযোগ্য সংগীতের মধ্যে রয়েছে-এই নীল মণিহার, আবার এলো যে সন্ধ্যা, আমায় ডেকো না, মামনিয়া, আগে যদি জানতাম, হূদয় আমার ইত্যাদি। এ ছাড়া অন্যান্য শিল্পীর জন্য তিনি রচনা ও সংগীতায়োজন করেছেন-কুমার বিশ্বজিত্ (যেখানে সীমান্ত তোমার), সামিনা চৌধুরী (কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে), হ্যাপী আখান্দ (আবার এলো যে সন্ধ্যা, কে বাঁশি বাজায় রে), নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী (আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে)।
লাকী আখান্দের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩-৬৭ সাল পর্যন্ত পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশি জাতীয় রেডিও নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বেতারের পরিচালক (সংগীত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন লাকী আখান্দ। কাজ করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেও। তিনি ব্যান্ড দল হ্যাপি টাচের সদস্য।
স্বাধীনতার পরপর নতুন উদ্যমে বাংলা গান নিয়ে কাজ শুরু করেন লাখী আখান্দ। তার নিজের সুর করা গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও বেশি। ১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপী আখান্দের মৃত্যুর পরপর সংগীতাঙ্গন থেকে তিনি অবসর নেন। তবে রেখে যান বাংলা গানের নতুন ধারা, যা আজও বইছে। সংগীতে অবদান রাখার জন্য অনেক সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি। ১৯৬৯ সালে লাকী আখান্দ পাকিস্তানি আর্ট কাউন্সিল হতে বাংলা আধুনিক গানে পদকসহ অনেক সম্মাননা লাভ করেন।

আরও খবর