মঙ্গলবার ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ০২:২৯

এমন রেমিট্যান্সে ধস ৩ দশকে দেখা যায়নি : বিশ্বব্যাংক

Published : 2017-04-21 23:19:00
নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বছর বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ১১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। চলতি (২০১৭ সালে) বছর ২ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়াতে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রবাসী আয় অর্জনে বাংলাদেশের মতোই অবস্থা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দু’বছর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবাসী আয় অর্জনে যে ধস নেমেছে, তা গত তিন দশকে দেখা যায়নি। ২০১৬ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আগের বছরের চেয়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে নেমেছে। ২০১৫ সালে এই দেশগুলোর রেমিট্যান্স আয় ছিল ৪৪ হাজার কোটি ডলার। তবে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রেমিট্যান্সের প্রবাহে চলতি বছর অগ্রগতি হবে। ২০১৭ সালে এসব দেশে প্রবাসী আয় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৪৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূ-মধ্যসাগরীয় দেশগুলো ও রুশ ফেডারেশনে তেলের দরপতন ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যএশিয়ার দেশগুলোর প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি ইউরোপে দুর্বল প্রবৃদ্ধির কারণে আফ্রিকার উত্তর ও সাহারা মরু অঞ্চলের দেশগুলোর প্রবাসী আয় কমেছে। তবে ডলারের সঙ্গে দুর্বল ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড ও রুশ রুবলের সঙ্গে তুলনা করলে প্রবাসী আয় প্রবাহের আরও অনেক কম। ফলে ব্যাপক প্রবাসী আয় অর্জনকারী দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহে মারাত্মক পতন দেখা গেছে।
বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইন্ডিকেটরস গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রিতা রামালহো জানান, উন্নয়নশীল বিশ্বের অনেক মানুষ প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। প্রবাসী আয় প্রবাহ কমে গেলে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের ক্ষমতা কমে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং তেলের দাম কমে যাওয়ার কারণে ২০১৬ সালে সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসী আয় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ১১ হাজার কোটি ডলারে নেমেছে। এ অঞ্চলের রেমিট্যান্স ২০১৭ সালে ২ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স গ্রহীতার অবস্থান ধরে রেখেও ভারতের প্রবাসী আয় গত বছর ৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৬ হাজার ২৭০ কোটি ডলারে নেমেছে। ২০১৫ সালে এই আয় ছিল ৬ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, শীর্ষ রেমিট্যান্সগৃহীতা দেশগুলোর মধ্যে নাইজেরিয়ার ১০ শতাংশ ও মিসরের আয় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ হারে কমেছে।
২০১৬ সালে বিশ্বজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৫৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নেমেছে।

 

আরও খবর