শনিবার ২১ অক্টোবর, ২০১৭, সকাল ০৭:২০

হিন্দুত্ববাদের নিঃশ্বাস মমতার ঘাড়ে

Published : 2017-04-21 22:45:00, Count : 213
সকালের খবর ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী দলীয় কাজে বৃহস্পতিবার উড়িষ্যা গিয়েই পুরির জগন্নাথ মন্দিরে পূজা দেন। এ সময় তিনি বলেন, আমিই প্রকৃত হিন্দু, আর বিজেপি হিন্দু ধর্মের জন্য ‘লজ্জা ও অভিশাপ’। কারণ তারা ধর্মকে কাজে লাগিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করছে। এত বছরের রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জীর মন্দির দর্শনের তেমন কোনো রেকর্ড নেই। কিন্তু হঠাত্ কেন মন্দির দর্শন ও নিজের হিন্দু পরিচয় সামনে আনার প্রয়োজন পড়ল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে জায়গা করে নিতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্য-যেখানকার ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী মুসলিম, সেখানে অভাবনীয় নির্বাচনী সাফল্যের পর পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারেও আশাবাদী হয়েছে বিজেপি। কলকাতায় রাজনীতির শিক্ষক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, মমতা ব্যানার্জী এখনও বাংলায় অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখনও হিন্দুত্ববাদের প্রভাব সামান্যই। তবে সন্দেহ নেই তার কাঁধে নিঃশ্বাস ফেলার চেষ্টা করছে বিজেপি। বিজেপির সেই প্রয়াস খুব অস্পষ্ট নয়। বিমল শঙ্কর নন্দ বলেন, কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, ভারতে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থান ঘটছে। উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। সেখানকার মুসলমানদের কাছে ভোট না চেয়েও বিজেপির বিপুল বিজয় হয়েছে। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাব এখনও তেমন নেই, তবে পশ্চিমবঙ্গের ৭৫ শতাংশ হিন্দু সেই তত্ত্বে আজ না হলেও একসময় প্রভাবিত হতেই পারে। তার কিছু নমুনাও সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে দেখা গেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে লোকসভার একটি উপনির্বাচনে আশাতীত ফল করেছে বিজেপি। কংগ্রেস এবং সিপিএমকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বিজেপির প্রার্থী। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি প্রচারে বিজেপি হয়তো সামনের দিনগুলোতে মমতা ব্যানার্জীকে হিন্দু বিদ্বেষী এবং মুসলিম তোষক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করতে পারে। সেই উদ্বেগ থেকেই কি তার  নিজেকে সাচ্চা হিন্দু তকমা দেওয়ার চেষ্টা! অধ্যাপক বিমল নন্দ বলেন, ভারতের হিন্দুরা বিজেপিকেই হিন্দুত্ববাদের প্রতিনিধি হিসেবে মনে করে। বিবিসি।