শনিবার ২১ অক্টোবর, ২০১৭, সকাল ০৭:২২

পোশাক শিল্পের সঙ্কট: সমন্বিত উদ্যোগে সমাধান জরুরি

Published : 2017-04-21 22:41:00, Count : 219
দেশের রফতানি আয়ের একটি বড় অংশ আসে পোশাক খাত থেকে। এই খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে বহু মানুষের। পোশাক খাতে কর্মরতদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। এর মাধ্যমে দেশের নারী সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীবিকা লাভ করেছে। এই শিল্পের উন্নতি যেমন দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহে গতি সঞ্চার করে, আবার এই শিল্পের সঙ্কটগুলোও সার্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। বর্তমানে দেশের পোশাক খাতের কী অবস্থা, এমন প্রশ্নের জবাব এক কথায় দেওয়া যায় না। সঙ্কট আছে, তবে কিছু কিছু অগ্রগতিও আছে। প্রধান সঙ্কট হচ্ছে-গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকে এই খাতে নানা ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কখনও অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের চাপিয়ে দেওয়া শর্ত, কখনও রফতানি আদেশ না থাকা, আবার কখনও মালিকদের আর্থিক সঙ্কটের কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত চার বছরে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত প্রায় ১২শ’ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্মচারী-শ্রমিক চাকরি হারিয়ে বেকার হচ্ছে। পোশাক খাতে সঙ্কট তৈরি হওয়ার রয়েছে নানাবিধ কারণ। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর দেশের পোশাক কারখানার পরিবেশ, শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়, সুযোগ-সুবিধার বিষয় ইত্যাদি নিয়ে দেশের সংশ্লিষ্ট মহলের সতর্কতা ও সচেতনতা বেড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারাও যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং তাদের প্রত্যাশা এবং চাহিদার ব্যাপারে চাপ সৃষ্টি করছে। সে অনুযায়ী কারখানায় ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কারখানা চালু রাখতে হলে সংস্কারের বিষয়টিকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। দেশের কারখানাগুলোর সবগুলোই যে সার্বিক বিবেচনায় যথাযথ মানের কারখানা হয়ে উঠেছে, সে দাবি করার সময় এখনও হয়তো আসেনি। তবে অনেক কারখানাই পরিবেশগত উন্নতি করেছে। সঙ্কটের আরও কারণ হচ্ছে-বিশ্ববাজারে পোশাকের দরপতন হয়েছে। প্রতিযোগিতামূলক দরে কাজ পেয়ে লাভের মুখ দেখা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। টাকার বিপরীতে ডলারের অবমূল্যায়নও পোশাক খাতের সঙ্কট সৃষ্টি করছে। শ্রমিক অসন্তোষও পোশাক খাতের সঙ্কটের একটি কারণ। মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। তবে এতসব সঙ্কটের পরও গত চার বছরে দেশে বিশ্বমানের অনেক কারখানা হয়েছে। কারখানা কমপ্লায়েন্স ও শ্রমিকদের জীবনযাপনের নিরাপত্তা অনেক বেড়েছে।
দেশের পোশাক খাতকে এগিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। এই খাতে বিরাজমান এবং বর্ধমান সঙ্কটগুলো নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ অবশ্যক। কিছু কিছু সঙ্কট আছে, যেগুলো নিরসনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। কিছু সঙ্কট কাটাতে সংশ্লিষ্টদের সদিচ্ছা জরুরি। বর্তমানে দেশের চামড়া শিল্প সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সঙ্কট আছে পোশাক শিল্পেও। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এই বড় দুটি খাতের সঙ্কট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা আবশ্যক, সেসব ক্ষেত্রে সরকার এগিয়ে আসবে, এটাই প্রত্যাশিত।