বৃহস্পতিবার ২৯ জুন, ২০১৭, দুপুর ০২:৫০

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দ আর নেই

Published : 2017-04-21 19:44:00, Updated : 2017-04-22 09:36:53, Count : 544
প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লাকী আখন্দ। (ফাইল ছবি) অনলাইন ডেস্ক: বাংলা সঙ্গীতাঙ্গনের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লাকী আখান্দ আর নেই। (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে গুনী এই শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৬১।

শুক্রবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে নাগাদ তার শরীরের অবনতি হলে তাকে দ্রুত মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মরণব্যাধী ক্যানসারে আক্রান্ত লাকী আখন্দ টানা আড়াই মাস হাসপাতাল জীবন শেষে মারা যান বলে তার মেয়ে মাম্মিন্তি নিশ্চিত করেছেন।

১৯৫৬ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশের প্রখ্যাত এই সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়কের জন্ম হয়। মাত্র ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি মাত্র ১৪ বছর বয়সেই এইচএমভি পাকিস্তানের সুরকার এবং ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ভারতের সংগীত পরিচালক হিসেবে নিজের নাম যুক্ত করেন।

১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকি আখান্দের প্রথম সলো অ্যালবাম লাকি আখান্দ প্রকাশ পায়। তিনি ব্যান্ড দল 'হ্যাপি টাচ'-এর সদস্য। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় রেডিও নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বেতার এর পরিচালক (সংগীত) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তার সংগীতায়জনে করা বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে- 'এই নীল মনিহার', 'আমায় ডেকো না', 'কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে', 'যেখানে সীমান্ত তোমার', 'মামনিয়া', 'লিখতে পারি না কোনও গান', 'ভালোবেসে চলে যেও না' ইত্যাদি।

১৯৬৯ সালে লাকি আখান্দ পাকিস্তানী 'আর্ট কাউন্সিল' হতে বাংলা আধুনিক গান বিষয় শ্রেণীতে পদক লাভ করেন ।

উল্লেখ্য, লাকী আখান্দ দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি বরেণ্য এ শিল্পীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বিএসএমএমইউ-এর সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের ভর্তি করা হয়। গত সপ্তাহে শরীরের অবস্থা উন্নতি হলে তাকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।