সোমবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭, রাত ১০:৩২

রিং সরবরাহে শুরু হল হূদরোগীদের অপারেশন: দাম নির্ধারণে বৈঠক রোববার

Published : 2017-04-21 00:55:00
দিলরুবা সুমী: আমদানিকারক কোম্পানিগুলো ধর্মঘট প্রত্যাহার করে হূদরোগীদের জন্য করোনারি রিং বা স্টেন্ট সরবরাহ স্বাভাবিক করায় রোগীদের অপারেশন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। তবে সরকার এখন পর্যন্ত দাম নির্ধারণ না করায় আগের দামেই রিং সরবরাহ করেছে কোম্পানিগুলো। এদিকে রিংয়ের দাম নির্ধারণে সরকার গঠিত কমিটির চূড়ান্ত বৈঠক আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় সকালের খবরকে বলেন, কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী স্টেন্ট সরবরাহ করায় গতকাল নির্ধারিত সব অপারেশন আমরা করেছি। একই সঙ্গে চিকিত্সকরা ওভারটাইম করে বুধবার স্থগিত করা ১৫ জন রোগীর অপারেশনও করেছেন। তাই এখন আমাদের এখানে আর কোনো সমস্যা নেই। তিনি জানান, যেহেতু এখনও রিংয়ের দাম 
নির্ধারণ হয়নি তাই আগের দামেই কোম্পানিগুলো রিং সরবরাহ করেছে।
প্রসঙ্গত, রিংয়ের মূল্য নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের উদ্যোগ নেওয়ার খবরে হঠাত্ করে বুধবার স্টেন্ট সরবরাহ বন্ধ করে দেয় আমদানিকারকরা। আর এতে রাজধানীর জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটসহ সরকারি অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত হূদরোগীদের স্টেন্ট অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় বুধবার সকালে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের পরিচালকদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর রিংয়ের দাম আপাতত আগের মতোই রাখা হবে বলে জানানোর পর স্টেন্ট সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো সেদিনই বিকেলে তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়।
চিকিত্সকরা জানান, জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ড্রাগ ইলিওটিং স্টেন্টের (ডিইএস) দাম ৮০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে জেনারেশনভেদে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকার মধ্যে রয়েছে। আর বেয়ার মেটাল ও বিএমএস স্টেন্টের দাম সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। তবে নির্ধারিত কোনো দাম না থাকায় সরকারি হাসপাতালের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বেসরকারি হাসপাতালে এ রিং কিনতে হয় গ্রাহকদের।
এ অবস্থায় হূদরোগীদের রিংয়ের দাম ঠিক ও নিয়ন্ত্রণ করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ১১ এপ্রিল হূদরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। এই কমিটি বিভিন্ন দেশের রিংয়ের দাম পর্যালোচনা করবে এবং সব ধরনের রিংয়ের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে দেবে। দেশে বর্তমানে বার্ষিক ১৮ হাজার করোনারি স্টেন্টের প্রয়োজন বলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর থেকে জানা যায়। এর পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির একাধিক সদস্য জানান, পণ্য আমদানির মূল্যসহ (এলসি প্রাইস) সবদিক বিবেচনা করেই রিংয়ের দাম নির্ধারণ করা হবে। এতে রিংয়ের দাম বর্তমানের চেয়ে অনেক কমে আসবে। যে যত বেশি দামে এখন রিং বিক্রি করছেন তার দাম তত বেশি হারে কমবে। তবে রিংয়ের দাম কত ভাগ কমবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। দাম নির্ধারণ করা হলে গ্রাহকরা সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে বর্তমানের চেয়ে কমে এবং একই দামে রিং পাবেন। কোম্পানিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। মধ্যস্বত্বভোগীরাও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তারা আরও জানান, কমিটি রিং আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে গরিব রোগীদের কথা বিবেচনা করে আগের জেনারেশনের রিংগুলো কম দামে বিক্রির আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে চারটি কোম্পানি সর্বনিম্ন ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে সরকারি হাসপাতালে রিং সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে। এর সঙ্গে সরকারিভাবে রিংয়ের দাম নির্ধারণের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেন, মোবাইল সেট যত বেশি উন্নত প্রযুক্তি হবে তত দাম বেশি হয়। কিন্তু আগের মোবাইলেও কাজ চলে। তেমনি কম দামের আগের জেনারেশনের রিং দিয়েও হূদরোগীকে সুস্থ করে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।
এর আগে মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, আমদানিকারক চারটি কোম্পানি হাসপাতালগুলোতে ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় রিং বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। কোম্পানিগুলো হল-কার্ডিয়াক কেয়ার লিমিটেড, ভাস্টেক লিমিটেড, মেডি গ্রাফিক ট্রেডিং লিমিটেড ও ওরিয়েন্ট এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড। এছাড়া সব কোম্পানির জন্যই রিংয়ের মোড়কের গায়ে দাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, উত্পাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রিংয়ের মোড়কের গায়ে দাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, উত্পাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঝুলিয়ে রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারী রিং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।