মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮, দুপুর ০২:০৮

তিস্তা চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি জনগণ মানবে না: মির্জা ফখরুল

Published : 2017-03-14 00:00:00

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ছাড়া অন্য কোনো চুক্তি হলে তা বিএনপি মানবে না। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ববিরোধী চুক্তি হলে জনগণও মেনে নেবে না বলে জানান তিনি। গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের এক যৌথ সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন ভারত সফরকে সামনে রেখে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতীয় পত্র-পত্রিকায় নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। তাই ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার বিষয়বস্তু আগেই জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো বিদেশ সফরে যান তখন সব বিরোধী দলের নেতাদের ডাকেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে সেটা হয় না।

জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস ঘোষণার প্রস্তাব সম্পর্কে দলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে, এটা আইনে আসুক।

নৌবাহিনীর জন্য চীন থেকে আনা দুটি সাবমেরিন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ফখরুল বলেন, সাবমেরিন যদি ডুবে ঠিকমতো এবং যদি শত্রুপক্ষের জাহাজকে মারতে পারে, তাহলে বিএনপি ওয়েলকাম জানাবে।

২০০১ সালে ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশবাসী হতবাক হয়েছে। এটা জনগণের চিন্তার মধ্যেই আসে না। এই উক্তির মধ্য দিয়ে তিনি এটা প্রকাশ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এদেশে বিদেশিরা কাজ করছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম সরকার পরিবর্তনে বা ইন্টারফেয়ারেন্সের মধ্য দিয়ে এসেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বিএনপি ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে গ্যাস বিক্রি করার জন্য মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) ক্ষমতায় এসেছেন কীভাবে? কার কাছে মুচলেকা দিয়েছেন? রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি অবলীলায় মিথ্যাচার করেন। এই মিথ্যাচারগুলোর জন্য জাতি আরও বিভক্ত হয়ে পড়ে।

এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন মির্জা ফখরুল। সভায় অংশ নেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান শিরীন, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদসহ বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতারা।