সোমবার ২২ জানুয়ারি, ২০১৮, সন্ধ্যা ০৬:৩১

আজ বিশ্ব কণ্ঠ দিবস: দেশের ৫ কোটির বেশি মানুষ কণ্ঠের সমস্যায় আক্রান্ত

Published : 2017-04-15 23:14:00
দিলরুবা সুমী: দেশের পাঁচ কোটিরও বেশি মানুষ কণ্ঠের নানা সমস্যায় ভুগছে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে স্বরভঙ্গে। এছাড়া দেশের ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ৩০ ভাগই নাক, কান ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত। আর এর এক-তৃতীয়াংশ শুধু গলার ক্যানসারে ভুগছে। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
তাদের মতে, কণ্ঠের বহু, ভুল ও অপব্যবহার স্বরভঙ্গ ও কণ্ঠনালির ক্যানসারসহ নানা সমস্যার কারণ। তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে কণ্ঠের ক্যানসার থেকেও সুস্থ হওয়া সম্ভব। কারণ বাংলাদেশে এখন কণ্ঠের সব ধরনের চিকিত্সার ব্যবস্থা রয়েছে।
এমন এক অবস্থায় আজ ১৬ এপ্রিল ‘শেয়ার ইউর ভয়েস’-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চিকিত্সকরা পালন করবেন বিশ্ব কণ্ঠ দিবস। কণ্ঠ ও কণ্ঠনালির সমস্যা এবং কণ্ঠকে সুস্থ রাখার উপায় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির জন্য ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। তবে বাংলাদেশে ২০১৫ সাল থেকে এই দিবস পালন
করছেন চিকিত্সকরা।
অ্যাসোসিয়েশন অব ফোনোসার্জনস অব বাংলাদেশের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান-গলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার সকালের খবরকে জানান, সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারণা করা হয় দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কণ্ঠের সমস্যায় ভুগছে। তবে এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হয় শিক্ষক, মাদ্রাসার ছাত্র, শিল্পী ও রাজনীতিবিদসহ কণ্ঠের বহু ব্যবহারকারীরা। শিক্ষকদের ১৫ ভাগ এবং মাদ্রাসাছাত্রদের ২০ ভাগ কণ্ঠের সমস্যায় আক্রান্ত। এছাড়া সংগীতশিল্পীদের পাঁচ ভাগ এ সমস্যায় ভুগছে।
তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এক সঙ্গে ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে লেকচার বা বক্তৃতা দেওয়া ঠিক নয়। কিন্তু স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা এক টানা সাত থেকে আটটি ক্লাস নেন। শিল্পীরা টানা একের পর এক গান গেয়ে যান। রাজনীতিবিদরা দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চস্বরে বক্তৃতা দেন। এজন্য তারা কণ্ঠের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। এর সঙ্গে যারা ধূমপান, মদ্যপান করেন, পান-জর্দা খান তাদের সমস্যা আরও বেড়ে ক্যানসারে রূপ নিতে পারে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে এসিডিটির সমস্যা, পরিবেশদূষণ, অপারেশন-পরবর্তী জটিলতা, সিএনজি-নছিমন-শ্যালো মেশিনের মতো বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহারে ওড়না, চাদর, মাফলার জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা থেকেও কণ্ঠের সমস্যায় আক্রান্ত হয় মানুষ।
এই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক জানান, ২৪ বছর আগেও কণ্ঠের চিকিত্সার জন্য রোগীদের দেশের বাইরে যেতে হতো। কিন্তু এখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউট ছাড়াও কয়েকটি হাসপাতালে স্বর ও কণ্ঠনালির অত্যাধুনিক সব চিকিত্সা ব্যবস্থা রয়েছে। বিএসএমএমইউতে কণ্ঠের সবধরনের সমস্যার অপারেশনসহ চিকিত্সার খরচ ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লাগে।
স্বর সুরক্ষায় কিছু বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে এই চিকিত্সক বলেন, গলা জোরে, উচ্চ চাপে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকা, চিত্কার, উচ্চস্বরে কথা বলা এড়িয়ে চলা, নিচু স্বরে স্পষ্ট করে কথা বলা, ঘরে বায়ু চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা, প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, যাতে স্বরযন্ত্রে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়, দৈনিক কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করা, ধূমপান, মদ্যপান থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিরত রাখা এবং ধোঁয়ার পরিবেশ থেকে দূরে থাকা, সঠিক নিয়মে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলে কণ্ঠকে রক্ষা করা সম্ভব। শিক্ষক, রাজনীতিবিদদের লাউড স্পিকার ব্যবহার করা, শিল্পীদের নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে গান করা, ঝাল ও মশলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে ও প্রয়োজন না হলে স্বরকে বিশ্রামে রাখতে হবে। আর ১৫ দিনের বেশি কারও ঠাণ্ডাজনিত কাশি থাকলে অথবা হঠাত্ করে স্বরের পরিবর্তন হলে তাকে অবশ্যই চিকিত্সকের কাছে যেতে হবে।
অন্যদিকে বিশ্ব কণ্ঠ দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় বিএসএমএমইউর বটতলা চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করবেন চিকিত্সকরা। পরে সকাল ১০টায় সি-ব্লকের ষষ্ঠ তলায় নাক, কান ও গলা বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।